শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ০৩:৪৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
শার্শায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফের ইন্তেকাল, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন  কুমিল্লা ইপিজেডের নাসা কোম্পানীর ছাদ ধ্বসে পড়ে এক শ্রমিক নিহত কুমিল্লায় মাহবুবের মাছের আঁশ রপ্তানি হচ্ছে চীন ও জাপানে চৌদ্দগ্রামের চান্দশ্রী থেকে ৬০০ বোতল ফেন্সিডিলসহ একজন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার শার্শা সীমান্তে ফেনসিডিলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক শার্শার ডিহিতে দুই মেম্বার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ২২ জন আহত  কুমিল্লায় প্রাইভেটকারের চাপায় বৃদ্ধের মৃত্যু দেবিদ্বারে শিশু ফাহিমা হত্যাকান্ডের দায়ে পিতাসহ ৫ জন গ্রেফতার কুমিল্লায় র‌্যাবের অভিযানে মাদকসহ চারজন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় চির বিদায় নিলেন আফজল খান নাঙ্গলকোটে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. কাজী শাহজাহান এর বিদায় সংবর্ধনা কুমিল্লায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা পাবে ফাইজার এর ৪১ হাজার টিকা রেলের প্রেসিডেন্ট সেলুনে একদিন গ্রন্থ সমালোচনা: মোবাশ্বের আলীর সাহিত্য চেতনা গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে তীব্র শীতের আভাস
দেবিদ্বারে শিশু ফাহিমা হত্যাকান্ডের দায়ে পিতাসহ ৫ জন গ্রেফতার

দেবিদ্বারে শিশু ফাহিমা হত্যাকান্ডের দায়ে পিতাসহ ৫ জন গ্রেফতার

নাজনীন তপা।। কুমিল্লার দেবিদ্বারে বাবার হাতে ৫ বছরের শিশু ফাহিমা হত্যাকান্ডের হত্যাকারী পিতাসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

 

বাংলাদেশ আমারঅহংকার এই শ্লোগান নিয়ে র‌্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, জঙ্গি দমন, অবৈধ অস্ত্র, মাদকউদ্ধার, চাঞ্চল্যকর হত্যা এবং বিভিন্ন আলোচিত অপরাধীদের গ্রেফতারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। গোয়েন্দা নজরদারী ও আভিযানিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে গ্রেফতারের মাধ্যমে র‌্যাব ইতোমধ্যেই জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

 

গত ৭ নভেম্বর বিকেলে কুমিল্লার দেবিদ্বারে ৫ বছরের শিশু ফাহিমা আক্তার নিখোঁজ হয়। এবিষয়ে শিশু ফাহিমার পিতাআমির হোসেন দেবিদ্বার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করে যার নম্বর ৪৬৪ তারিখ ১১ নভেম্বর ২০২১। নিখোঁজের পর ভিকটিমের পিতা আমির হোসেন ৭ ও ৮ নভেম্বর আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে এমনকি গত ৮ নভেম্বর  ঝার-ফুঁকদিয়ে মেয়েকে খোঁজার জন্য একজন কবিরাজকেও খবর দেয়া হয়। পরবর্তীতে গত ১৪ নভেম্বর পুলিশ কর্তৃক কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের কাচিসাইর জনৈক নজরুল মাস্টারের বাড়ির সামনে কালভার্টের নীচে সরকারী খালের ডোবা থেকে নিহত ভিকটিমের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করা হয়। এ প্রেক্ষিতে মোঃআমির হোসেন ভিকটিমের লাশটি তার মেয়ে ফাহিমা আক্তারের বলে সনাক্ত করে।

এ বিষয়ে ভিকটিমের বাবা ঘাতকআমির হোসেন বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে মামলা নং-১১, তারিখ- ১৪নভেম্বর ২০২১, ধারা- পেনাল কোড ১৮৬০ এর ৩০২/২০১/৩৪। এ নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনাটি দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হয়।

 

র‌্যাব বর্ণিত ঘটনার প্রেক্ষিতে ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন ও আসামী গ্রেফতারের নিমিত্তে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে।

 

এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১১ এর অভিযানে গত ১৬ নভেম্বর তারিখ রাতেকুমিল্লার দেবিদ্বার ও রাজধানীরযাত্রাবাড়ী এলাকা হতে ভিকটিমের পিতা ঘাতক  মোঃ আমির হোসেন (২৫),  মোঃ রবিউলআউয়াল (১৯),  মোঃ রেজাউল ইসলাম ইমন (২২),  (৪) মোসাঃ লাইলি আক্তার (৩০) এবং (৫) মোঃ সোহেল রানা (২৭) কে গ্রেফতারকরে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা এই নির্মম হত্যাকান্ডের সাথে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্বীকার করে।

 

জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায়, ভিকটিমের বাবা মোঃ আমির হোসেন এর সাথে গ্রেফতারকৃত মোসাঃলাইলি আক্তার এর পরকীয়ারসম্পর্ক ছিল। গত ৫নভেম্বর মোসাঃ লাইলি আক্তার ওআমির হোসেনকে ভিকটিম ফাহিমা আক্তার আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে। এতে লাইলি আক্তার ও আমির হোসেন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে এবং লাইলি আক্তার এই বিষয়টি যেন কেউ জানতে না পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমির হোসেনকে চাপ দিতে থাকে। লাইলি আক্তারের প্ররোচণায় গত ৬নভেম্বর ভিকটিমের পিতা ঘাতক আমির হোসেন গ্রেফতারকৃত অন্যান্য সহযোগীদের নিয়ে নিজের শিশু কন্যা ফাহিমা আক্তারকে হত্যার পরিকল্পনা করে। আমির হোসেন তাৎক্ষণিকভাবে লাইলি আক্তারকে তার পরিকল্পনার বিষয়টি জানায়।

 

গ্রেফতারকৃত ঘাতক আমির হোসেন লাইলি আক্তারকে নিয়ে আরো পরিকল্পনা করে মেয়েকে হত্যা করার পর সে তার স্ত্রীকে ডিভোর্স অথবা প্রয়োজনে হত্যা করে হলেও লাইলি আক্তারকে বিয়ে করবে। এ প্রেক্ষিতে গত ৬ নভেম্বর রাতে মোঃ রেজাউল ইসলাম ইমন এর ফার্নিচার দোকানে ভিকটিমের পিতা মোঃআমির হোসেন টাকার বিনিময়ে মোঃ রবিউল আউয়াল, মোঃ রেজাউল ইসলাম ইমন ও মোঃ সোহেলরানা’কে সঙ্গে নিয়ে ভিকটিম ফাহিমা আক্তারকে হত্যার জন্য পরিকল্পনাকরে। পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক হত্যা করার জন্য ধারালো ছুরি ও হত্যার পর লাশটি লুকানোর জন্য দুইটি প্লাস্টিকের বস্তা সংগ্রহকরে। পরবর্তীতে তারা ফাহিমাকে হত্যা করারউদ্দেশ্যে গত ৭নভেম্বর বিকাল আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটে  কৌশলে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে ভিকটিমকে সাথে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় ও চাঁপানগর রাস্তার মোড়ে সোহেল রানার সিএনজিতে করে ঘাতক মোঃআমির হোসেন ও তারঅন্যান্য সহযোগীরা ভিকটিমকে নিয়ে রওনা করে। তারা সিএনজিতেবিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করে রাত  সাড়ে আটটায় দেবিদ্বার পুরান বাজারের দক্ষিণে নদীর তীরবর্তী নির্জন স্থানে ভিকটিম ফাহিমাকে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর লাইলি আক্তারের আমির হোসেন তার মেয়ে ভিকটিম ফাহিমার মুখ চেপে ধরে রাখে ও সর্বপ্রথম নিজেনিজ মেয়েকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে, রবিউল ভিকটিমের পায়ে ছুরি দিয়ে আঘাত করে, রেজাউল ইসলাম ইমন ছুরি দিয়ে ভিকটিমের পায়ে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে, সোহেল ছুরি দিয়ে ভিকটিমের পিছনে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে ক্ষত-বিক্ষত করে দেয়। পরবর্তীতে সহযোগীরা ভিকটিমের হাত-পায়ে চেপে ধরেরাখে এবং পিতা আমির হোসেন তার মেয়ে ভিকটিম ফাহিমা আক্তারের গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। হঠাৎ করে ঘটনাস্থলের আশেপাশে সম্ভাব্য লোকজনের চলাচল আচ করে অতি দ্রুত ভিকটিমের লাশ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে সিএনজিতে করে রওনা দেয়।পথিমধ্যে সুবিধাজনক স্থান না পেয়ে তারা লাশটি রেজাউল ইসলাম ইমনদের গরুর ঘরেএকটি ড্রামের ভিতরে লুকিয়ে রাখে।

 

গত ৯নভেম্বর২০২১ তারিখ রাত আনুমানিক ৯টায় সোহেল রানার সিএনজিতে করে মোঃআমির হোসেন, মোঃ রবিউলআউয়াল, মোঃ রেজাউল ইসলাম ইমন ভিকটিমের বস্তাবন্দি লাশটি কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের কাচিসাইর জনৈক নজরুল মাস্টারের বাড়িরসামনের কালভার্টের নীচে সরকারী খালে পানিতে ফেলেআসে। ইতোমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কোম্পানীগঞ্জে একটি শিশুর লাশ পাওয়া গেছে এমন সংবাদ পেয়ে আমির হোসেন তার পরিবারের লোকজনকে নিয়ে তাদের মনে বিশ্বাস স্থাপন করারউদ্দেশ্যে সেখানে যায় এবং বিষয়টি গুজব বলে পরিবারের সদস্যদের জানায়। পরবর্তীতে গত ১৪নভেম্বর ভিকটিমের লাশ পাওয়ার পর ভিকটিমেরবাবা ও হত্যাকারী মোঃআমির হোসেন (২৫) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামী করে দেবিদ্বার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরকরে।

 

ভিকটিম নিখোঁজ হওয়ার পর সন্ধানের উদ্দেশ্যে এবং লাশ পাওয়ার পর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য প্রকৃত হত্যাকারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকার পোস্ট করে, যাতে তাদের উপর কারো সন্দেহ না হয়।

 

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© কুমিল্লা দর্পণ। সর্বসত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও ডেভেলপে Host R Web