শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার জন্য তরুণ সমাজকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে ক্লাস শুরু হলেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা কুমিল্লায় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা নোয়াখালীতে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন হত্যার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত 💜 অনুভবে, ভালবাসায়……💜 দেবিদ্বার উপজেলা চেয়ারম্যান পদের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ইশতেহার ঘোষণা বরুড়ায় কিশোরের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা ভিসিটির গৌরবের এক যুগ ২০ লাখের বেশি মানুষ ভ্যাক্সিন নিলেন ” ভাষার হোক জয় “ কুমিল্লায় জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা কুমিল্লায় পারিবারিক কলহে দুই দিনে পাঁচ খুন নবযাত্রা’র দ্বিতীয় সোপান বসন্ত এসে গেছে
💜 অনুভবে, ভালবাসায়……💜

💜 অনুভবে, ভালবাসায়……💜

💜 কণা সাহা 💜 সোনালী দিগন্তের প্রভাত ছুঁয়ে উদ্ভাসিত হলো শুভ্র, রৌদ্রস্নাত দিন। পাশের ভবনের কার্ণিশে জোড়া শালিকের প্রেমমাখা খুনসুটি দেখছিলাম। পশ্চিমের বারান্দার প্রান্ত ঘেঁষে একহারা দোপাটি গাছটায় আজ বেশ কিছু ফুল ফুটেছে। ভালবাসার রং এ-র টকটকে লাল জীবন্ত ফুল। যতটুকু বোধ থাকলে ভালবাসাকে অনুভব করা যায়, দিনমণি’র আভায় আলোকিত লজ্জারাঙা দোপাটিগুচ্ছ আমার হৃদয়কুঞ্জের অনুভূতিতে তেমনি তৃপ্তির দোলা জাগাচ্ছিল।

 

আহা! লাল দোপাটি কি অনুপম সৌন্দর্য ধারণ করে আছে, তার স্বকীয়তায়- ভালোবাসা বিলোবে বলে! নিজেকে মেলে ধরার,ধারণ করার এ আকুতির মূল্যায়ণ হয় কি? ভালোবাসার প্রাচুর্যে আমি তোমায় সমৃদ্ধ করবো হে প্রেমময়ী দোপাটি! বাতাসের কাছে বার্তা পেয়ে মৌমাছিরা ছুটে এসেছে দোপাটি গাছটার চারপাশে – মধু সংগ্রহ করবে বলে। এক দিবসের কালব্যাপ্তীতে দোপাটির অবদানও কিছু কম নয়। তাই আমি তোমায় নগন্য হতে দিবনা। বিভাকরের শেষ আভা মিলিয়ে যাওয়া অবধি আমি তোমায় স্নেহের ছায়ার আঁচলে জড়িয়ে রাখবো। সময় ফুরোলে বেলা শেষে বৃন্তচ্যুত হয়ে ঝরে পড়লে, সেই অন্তিম সময়টাতেও আমি পরম মমতায় তোমায় যত্নে স্হাপন করে কবরী রাঙাবো। প্রকৃতিতে তোমার ভূমিকাটুকুও আমার শক্তি। তুমি বুঝে নিও,তোমার অস্তিত্বের প্রতি এ আমার প্রেমপূর্ণ শ্রদ্ধাজ্ঞাপণ।

 

ধূলির আবরণে নিমজ্জিত প্রকৃতির আনাচে-কানাচে চলছে প্রেমের আনাগোনা। বহুমাত্রিক ভালবাসার বিস্তৃত মোহময়তায় আপ্লুত মানবমন। ভার্চুয়াল ভালবাসার প্রভাব, উপহার দেয়া-নেয়ার হিড়িক, ব্যবসায়িক বিনিয়োগ মাধ্যমকে চাঙ্গা করা, করোনার ক্রান্তিলগ্নেও পকেট খালি করার প্রবণতা, সম্পর্ক কে দৃঢ়তায় বাঁধা – সবমিলিয়েই – ভালবাসা দিবস কে উৎসব উদযাপনের কেন্দ্রবিন্দু বানিয়ে প্রকৃতির দ্বারপ্রান্তে এসেছে ফাগুন। ইতিহাসে, প্রকৃতিতে পলাশ-শিমুল ফোটা, কোকিল ডাকা, মন রাঙানো ঋতু হিসেবে ফাল্গুন আগেও ছিল। শুধু ছিল না মনুষ্যসৃষ্ট অতি আড়ম্বরপূর্ণ উৎসব আয়োজনের ঘনঘটা! আর ভালবাসা! সে তো যুগ-যুগান্তরব্যাপি বিস্তৃত হয়েছে হৃদয় জুড়ে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় ডালপালা ছড়িয়ে…! তাই দেয়া-নেয়ার প্রাপ্তির প্রভাবিত আনন্দটুকুও ভালবাসা কে ঘিরেই। সবকিছুই হৃদয়ের যত্নকল্পে কৃত-অনুভূতির পরিতৃপ্তরূপ।

 

ভালোবাসাবাসির স্বপ্নময় সীমারেখায় কুড়িয়ে-ছড়িয়ে যতটুকু প্রাপ্তি, সেই অম্লানতার নিবিড়তর স্পর্শে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন কাটানো না গেলেও, প্রেমপূর্ণ স্মৃতিসুধাময় প্রেক্ষাপট অন্তহীন নির্ভীকতার আঁড়াল ছুঁয়ে অভিজ্ঞতায় আনে ভিন্নবোধ।
সুপ্ত মঞ্জুরীসম ভালবাসার কুঁড়ি ধীরে ধীরে বিকশিত হতে হতে একসময় ঝরে পড়ে বিলীন হয়ে যায়। তবুও তার রেশ, তার পূণরাবৃত্তি শিকড়ের ফাঁক-ফোঁকড়েই বাঁধা থাকে আজন্মের বন্ধনরূপে।

 

ছোটবেলায় বাবা অনুপ্রাণিত করতেন – প্রকৃতিপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে। বাবা চারাগাছ কিনে দিতেন, টুকিটাকি যত্নপদ্ধতি শেখাতেন। সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে যাবার সময় আমায় ফুল,মালা,তোড়া কিনে দিতেন সাজের অনুষঙ্গ হিসেবে। শ্রাবণ সন্ধ্যায় তোমার কিনে আনা বেলীফুলের মালার গুচ্ছ আজও অনুভব করি বাবা। কতদিন দেখেছি, মায়ের খোঁপায় বেলীফুলের মালা জড়িয়ে দিতে! মুখরিত সুঘ্রাণে ঘর ভরে থাকতো! আজও চোখ বুজলে সেই সুবাসিত ঘ্রান আমার ভালবাসামাখা স্মৃতিতে অনুরণন তোলে। আর এখনও কি পরম ভালবাসায় মায়ের ছবিতে প্রতিদিন মালা পড়াও!! আমার দু-চোখ ভিজে যায়, হৃদয় পুড়ে খাক্ হয়ে যায়…….!!

 

নব জনমে সেই সুঘ্রাণের পূণরাবৃত্তি অনুভবে
ভিন্ন মাত্রা যোগ করেনি। তোমার সাথে আমার বাইশটি ফাল্গুন কেটেছে।ভালবাসার উৎসব এর আড়ম্বর অনুভব করা হয়নি সবুজ প্রান্তরে হাত ধরে হেঁটে। কবরী সাজেনি কোন ফুলেল সৌন্দর্যে। হিসেব করে চলতে চলতে মুখ থুবড়ে পড়েছি, চলৎশক্তি হারিয়েছি। কৈফিয়ৎ আর দায়বদ্ধতা আমায় পরাধীন করলেও আমার বড় প্রাপ্তি – আমি নিজের কাছে স্বচ্ছ্ব হতে শিখেছি। কঠিন বাস্তবতার অন্তরালে আমরা দুজন ভালবাসা কে সাজিয়েছি শুধু হৃদয়ের অলিন্দে, সম্পর্ক নামক উপাধিতে। চারদেয়ালের কোনে কোনে,পাঁজরের পরতে পরতে আমাদের ভালবাসার অনুভূতিগুলো গভীরতা পেয়েছে। স্বকীয়তা দিয়ে নিজের শিকড়ছোঁয়া অভিজ্ঞতায় বর্ণিল করেছি ভালবাসার জগৎ। সবটুকু তো ঠুনকো নয়!

 

আদান-প্রদানের সুখময়তার প্রভাব জীবনে ভিন্ন মাত্রা দিলেও বিশ্বস্ততাকে কেন্দ্র করে বিরাজমান অতীব মূল্যবান আর রহস্যময় সম্পর্ক “ভালবাসা” আমায় নিবিড়ভাবে ভাবায়। তাই, দোপাটির উৎস প্রাপ্তিস্থল থেকে শুরু করে জীবনের সর্বস্তরে আমি ভীষণভাবে ঋণী হয়ে যাই তোমাদের অকৃত্রিম ভালবাসার মোহময়তার কাছে। সম্পর্ককে শুধু টিকিয়ে রাখতে নয়,আমৃত্যু ভালবাসার ঋদ্ধ সুরে জীবিত রাখতে চাই। তাই, আমার চতুর্দিকে বিচরণরত প্রিয়জনদের হাসিমাখা মুখাবয়বে আমি পলাশ, শিমুল ফোটা ফাগুনকে দেখি। সন্তানদের গাল ভরা মা ডাকে কোকিলের কুহুতান খুঁজি। জগতের সাদা মনের মহা মানবদের স্মরণীয়, বরণীয় কীর্তিগুলোতে আমি অপার বিস্ময়ের ভালবাসায় অবগাহন করি। আমার চেতনা জুড়ে ঘিরে থাকা ভালবাসা ফাগুনের রঙে রাঙিয়ে তোলে স্বপনচারিনী অস্তিত্ব কে। অনুভব এর মৌনতায় ভালবাসা ছড়িয়ে পড়ে হৃদয় থেকে হৃদয়ে……!

লেখকঃ কবি ও প্রাবন্ধিক।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© কুমিল্লা দর্পণ। সর্বসত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও ডেভেলপে Host R Web