রবিবার, ২০ Jun ২০২১, ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
কুমিল্লায় অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী রেজাউল গ্রেফতার স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে কুমিল্লায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান কুমিল্লায় গুলিভর্তি রিভলবারসহ ৯ মামলার আসামীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব কুমিল্লায় দ্বিতীয় ধাপে ঘর পাবেন ১,২৯১টি ভূমিহীন পরিবার কুমিল্লায় সড়ক দুঘর্টনায় ৩ জনের মৃত্যু পিতার সাথে অভিমান করে মেয়ের আত্মহত্যা হোমনায় জেলেদের মাঝে সেলাই মেশিন ও বেড় জাল বিতরণ কুমিল্লায় নকল বিটুমিন তৈরি কারখানায় অভিযান, মালিকসহ আটক ২ কুমিল্লায় সিনোভ্যাক ভ্যাকসিন পৌঁছেছে চৌদ্দগ্রামে ইয়াবাসহ নারী আটক এক বছর পরীক্ষা না দিলে বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে না-দীপু মনি পরিবহন থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে র‍্যাবের হাতে আটক ২ তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত সচিব কুমিল্লায় ব্যবসায়ীকে হত্যা চেষ্টার পর লুঙ্গি ড্যান্স করা মেহেদী গ্রেফতার মুরাদনগরে মাদক বিরোধী সমাবেশ
স্বাস্হ্যবিধি উপেক্ষিত কুমিল্লার ঈদ বাজারে

স্বাস্হ্যবিধি উপেক্ষিত কুমিল্লার ঈদ বাজারে

রুবেল মজুমদার ।।
দীর্ঘ দেড় মাস পর নারী ক্রেতারা ঘর থেকে বেড়িয়ে আসতে পেরে মহাখুশি। সারাদেশের ন্যায় প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসকে উপেক্ষা মহা আনন্দে নগরীর ব্যস্ততম কুমিল্লার কান্দিরপাড় এলাকার শপিংমল ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে কেনাকাটা করছেন নগরবাসী। শারীরিক সুরক্ষার কথা ভুলে গিয়ে একে অপরের গা-ঘেঁষে কেনাকাটায় মগ্ন হয়ে পড়েছেন তারা। দেখে মনে হয় ঈদ উৎসবের আনন্দে ভুলে গেছেন লকডাউনের কথা!! সর্বত্র ঈদ কেনাকাটায় বেপরোয়া ভীড় পরিলক্ষিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিধিকে উপেক্ষা করে ভিড় করা এই ক্রেতাদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণী ও নারী।

সকাল থেকে রাত অবধি ব্যস্ততায় বেসামাল শো রুম ও দোকান মালিক কর্মচারিগন। ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও যানবাহনের জ্যাম থেকে বাচঁতে গত ২০ শে রমজান থেকে কুমিল্লার কান্দিরপাড় এলাকায়টি যান চলাচল নিষিদ্ধ করেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন।

 

এছাড়া নগরীতে মুভমেন্ট পাস নিয়ে বিধিনিষেধের শুরুতে কড়াকড়ি থাকলেও তা এখন আলোচনা থেকে বহু দূরে। এখন মুভমেন্ট পাস চেক করতে দেখা যাচ্ছে না পুলিশকে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এখনো চলছে মুভমেন্ট পাস চেকিং!
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ,করোনাভীতি উপেক্ষা করেই ঈদ কেনাকাটায় ব্যস্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকার জনসাধারন। বিশেষ করে গতবছর করোনার কারণে অনেকেই ঈদের বাজার করতে পারেনি, তাই এবার তারা জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে কেনাকাটা করতে ছুটে আসছে নগরীর শপিংমলগুলোতে।

 

এবার মেয়েদের তৈরি পোশাকের দোকানগুলোতে চলছে তরুণ-তরুণীদের কেনাকাটার ধূম। নগরীর কান্দিরপাড়ের অভিজাত শপিং মল সাত্তার খান কমপ্লেক্স, খন্দকার হক টাওয়ার, ময়নামতি গোল্ডেন টাওয়ার, আনন্দ সিটি সেন্টার, হোসনে আরা ম্যানশন, গণি ভূঁইয়া ম্যানশন, সাইবার ট্রেড, নূর মার্কেট, হিলটন টাওয়ার, রামঘাট এলাকার কুমিল্লা টাওয়ার, রেইস কোর্সের ইস্টার্ন এয়াকুব প্লাজা ও নগরীর নজরুল এভিনিউতে আড়ং, রঙ, বিশ্বরঙ, সাদাকালো, অঞ্জনস্, লাকসাম রোডের ইজি, বাদুরতলায় ইনফিনিটি, ক্যাটসআই, কান্দিরপাড়ের ম্যানস্ ওয়ার্ল্ডের শো-রুমেও হরদম জমে ওঠেছে কেনাকাটা।

 

নগরীর খন্দকার হক টাওয়ার ফ্রেন্ডশিপ দোকানের মালিক শরীফ খান জানান, গত বছর করোনার কারণে আমরা দোকান খুলতে পারিনি, সরকার ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে দোকানপাট খুলে দিয়েছে ।গত কয়েক বছরে তুলনায় বেচাকেনা এবার একটু কম। তবে মোটামোটি ভালো বিক্রি হচ্ছে।

 

সদর দক্ষিণ উপজেলা থেকে নগরীর হিলটন টাওয়ারে শপিং করতে আসা ফারজানা আক্তার সাথী বলেন, গত বছরও করেনার কারণে শপিং করতে পারিনি। এবার আম্মুকে নিয়ে অনেক কষ্ট করে সিএনজি করে আসছি শপিং করতে। করোনা হলে আর কি করবো? আমাদের তো শপিং করতে হবে। শপিং না করলে ঈদ করব কিভাবে?

 

ইস্টাচি শোরুমে দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের শার্ট ও গেঞ্জি ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ওকে বুটিকসে মেয়েদের রকমারি পোশাক এবার বেশ নজর কেড়েছে। এখানে এমএলটি থ্রি-পিস ৪ হাজার ২০০, সাওয়া ৩ হাজার ৫০, ৫ হাজার ২০০ টাকা এবং নিশামনি ফেব্রিক্স দোকানে গুজরাটি, বিনয়সহ বিভিন্ন ব্রান্ডের থ্রি-পিস ৩ হাজার ২০০ টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

 

বোরকা বাজারেও নারীদের বেশ কেনাকাটা চলছে। দুবাই বোরকা হাউজসহ অন্যান্য বোরকা হাউজে আবায়া বোরকা ৭ হাজার ৫০০ টাকা, ইরানী ৬ হাজার ৫০০ টাকা, দুবাই বোরকা ১১ হাজার ৫০০ টাকা ও কাপ্তান বোরকা ৯ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিজাইন ও কাপড় অনুসারে ১ হাজার টাকারও বোরকা রয়েছে।

 

এ প্রসঙ্গে কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আতিক উল্লাহ খোকন বলেন, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সীমিত পরিসরে সকাল দশটা থেকে রাত আটটা অব্ধি দোকান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো দোকান মালিক সমিতি। কিন্তু কেনাকাটায় মানুষের এই ঢল নামায় পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব হচ্ছে না। তবে দোকান মালিক সমিতি স্বাস্থ্য বিধি মানার বিষয়টি মনিটর করছে।

জেলার সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসাইন বলেন, এভাবে অবাধে মার্কেট গুলোতে ভিড় খুবই ঝুকিপূর্ণ। তিনি বলেছেন, করোনা প্রতিরোধে ব্যক্তি সচেতনতার বিকল্প নেই। ঈদের কেনাকাটার চাইতে জীবন বাঁচানো জরুরি।

 

এদিকে করোনার মাঝেই এভাবে শপিং করতে আসা গৃহিনী মুনমুন জানান, কখন আবার শপিংমল বন্ধ হয়ে যায় এই আতংকে তাড়াহুড়ো করেই কেনা-কাটা করছেন তিনি।

 

উল্লেখ্য; ৬০ লক্ষাধিক জনবসতি অধ্যুষিত কুমিল্লার ১৭ উপজেলা ছাড়াও আশপাশের জেলাগুলো থেকেও এখানে মানুষ কেনাকাটা করতে আসছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© কুমিল্লা দর্পণ। সর্বসত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও ডেভেলপে Host R Web