শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার জন্য তরুণ সমাজকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে ক্লাস শুরু হলেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা কুমিল্লায় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা নোয়াখালীতে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন হত্যার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত 💜 অনুভবে, ভালবাসায়……💜 দেবিদ্বার উপজেলা চেয়ারম্যান পদের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ইশতেহার ঘোষণা বরুড়ায় কিশোরের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা ভিসিটির গৌরবের এক যুগ ২০ লাখের বেশি মানুষ ভ্যাক্সিন নিলেন ” ভাষার হোক জয় “ কুমিল্লায় জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা কুমিল্লায় পারিবারিক কলহে দুই দিনে পাঁচ খুন নবযাত্রা’র দ্বিতীয় সোপান বসন্ত এসে গেছে

“শেষ দেখা”

রাফিউ রামিম।।
ঈশতিঃ এই; চলো ফুচকা খাবো।
কাব্যঃ এখনই যেতে হবে?🙄 মাত্রই তো এসে বসলাম।
ঈশতিঃ হ্যাঁ! এখনই চলো।😒
কাব্যঃ আচ্ছা, চলো তাহলে।
হাঁটতে হাঁটতে চলে গেলাম ফুচকাওয়ালা মামার কাছে। বললাম ভালো করে দু-প্লেট ফুচকা বানিয়ে দিতে, আর ঝালটা একটু কমিয়ে দিতে। আমি অবশ্য প্রচুর ঝাল খেতে পারি, কিন্তু ঈশতি মেয়েটা ঝাল একদমই সহ্য করতে পারেনা। নিজে যেরকম মিষ্টি মেয়ে, সবসময় খাবার ও খায় মিষ্টি মিষ্টি, কতো বললাম চকলেট খাওয়া কমাতে। কিন্তু না, কিছুতেই আমার কথা শুনবেনা।😐
—-(ফুচকা খাওয়া শেষে।)
কাব্যঃ বলো এখন কোথায় যাবে?
ঈশতিঃ কি! তোমার খাওয়া শেষ, আমিতো এখনো অর্ধেকও খেলাম না। দাড়াও চুপ-চাপ আমি খাওয়া শেষ করে নেই, তারপর বলছি।
কাব্যঃ আচ্ছা।
(খেতে খেতে)
ঈশতিঃ আচ্ছা রানীর কুটির গিয়ে বসলে কেমন হয়? সিরিগুলোর উপর, জায়গাটাও একটু নিরিবিলি।
কাব্যঃ যেমনটা বলো, এমনিতেও পহেলা ফাল্গুন দেখে আজ অনেক ভীড়। ভালোই হবে।
ঈশতিঃ হুম, খাওয়া শেষ। চলো এখন।
কাব্যঃ হুম, চলো।
——-
আজ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ দিন, ভাগ্যক্রমে আজ পহেলা ফাল্গুন। তাই ভার্সিটি থেকে সব অনুষ্ঠান শেষ করে আমি আর ঈশতি চলে এলাম পার্কে। কিন্তু এসে শান্তি পেলাম কই, ফাল্গুন উপলক্ষ্যে সব জায়গাতেই কোলাহল লেগে আছে। চারিদিকে মানুষের আনাগুনা। দুজন হাঁটতে লাগলাম, ঈশতি আজ শাড়ি পরে এসেছে। বেশ মানিয়েছে ঈশতিকে। শাড়িটা বোধ হয় ওর আম্মুর। তাই খুব যত্ন সহকারেই হাঁটছে। হাঁটতে হাঁটতে চলে আসলাম রানীর কুটির৷ রাস্তা যেন আজ খুব তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যাচ্ছে।
অনেক্ষন চুপ-চাপ বসে রইলাম, আর চারপাশের মানুষের আনন্দ দেখতে লাগলাম। কি বলবো কিছু বুঝে উঠতে পারছি না।
তখন ঈশতি হঠাৎ জিজ্ঞেস করলো-
ঈশতিঃ তো এখন কি প্ল্যান করছো, কি করবে।
কাব্যঃ জানি না, কিছু ভেবে উঠতে পারছিনা।
ঈশতিঃ ভেবে উঠতে পারছোনা! কেনো, কোনো গন্তব্য নেই?
কাব্যঃ সঠিক দিশা খুঁজে পাচ্ছিনা, গন্তব্য পাবো কোথা থেকে।
—-
ঈশতি হঠাৎ চুপ হয়ে গেলো, কিছু জিজ্ঞেস করলো না। আমিও চুপ করে বসে রইলাম। ভাবলাম এভাবে মেয়েটার মন খারাপ করাটা ঠিক হবেনা। জিজ্ঞেস করলাম-
এই নাগরদোলায় উঠবে?🤔
ঈশতিঃ না না, আমার ভীষণ ভয় করে।😖
কাব্যঃ ভয় কিসের, চলো মজা হবে, উপর থেকে মেলার দৃশ্য দেখবো।
ঈশতিঃ যদি বেহুশ হয়ে যাই!!😳

😅😅😅😅😅😅
আমি তখন হাসতে হাসতে ঈশতি কে নিয়ে গেলাম নাগরদোলার কাছে। অনেকক্ষণ পর আমাদের সিরিয়াল আসলো। অনেক জোর করে ঈশতি কে উঠালাম। প্রথমে মেয়েটা আসলে অনেক ভয় পাচ্ছিলো। কিন্তু উপরে উঠার সাথে তার ভয় আস্তে আস্তে কমতে লাগলো। ঈশতি নিচের দৃশ্য দেখায় এতোটাই ব্যস্ত যে তার ভয় উধাও। ঠিক মাঝ বরাবর থামলো। প্রায় এক-মিনিট থেমে রইলো। ঈশতি বলতে লাগলো-
জানো এই প্রথম নাগরদোলায় উঠলাম। নিচের চারপাশ টা কতো সুন্দর দেখাচ্ছে দেখো।😍
—–
এভাবেই ছোট বাচ্চার মতো ঈশতি সবকিছু বর্ণনা করতে থাকলো। আমিও কান পেতে সব শুনে গেলাম। নাগরদোলা থেকে নেমে ঈশতি কে বললাম,
কাব্যঃ এবার কোথায় যাবে বলো?
ঈশতিঃ চলো হাঁটি কিছুক্ষণ, ভালো লাগছে না।
কাব্যঃ পানি খাবে?
ঈশতিঃ হ্যাঁ।
—–
ঈশতির জন্য পানি কিনে আনলাম। পানি পান করে যেন তার ভিতর প্রাণ ফিরে আসলো। বুঝে উঠলাম, নাগরদোলায় উঠায় এমন হয়েছে। তার উপর প্রথম উঠেছে, হওয়ার ই কথা।
পার্কের বাইরের রাস্তাটায় আমরা হাটতে লাগলাম। হাঁটতে হাঁটতে প্রায় পার্কের দ্বিতীয় গেইটের কাছে চলে আসলাম। আরো কিছু সময় থাকার ইচ্ছে ছিলো, তবে রাত নেমে এসেছে। তাই তাকে আর ধরে রাখলাম না। রিক্সায় তুলে দিলাম ঈশতিকে।🤍 যেতে যেতে ঈশতি বলে উঠলো-
পরের মাসে কিন্তু আমার বিয়ে, মনে থাকে যেন।
কাব্যঃ ভুলবো না।
——
আমি তখন ফিরে আসলাম রানীর কুটির। সেখানে বসে রইলাম ঘন্টা খানেক।👤💫
সেদিন কে জানতো সেই দেখাটাই হয়তো আমাদের শেষ দেখা ছিলো। পরের মাসে তার বিয়ে হলো আবির নামের এক ছেলের সাথে। ছেলেটা নাকি কানাডায় থাকে, তার পরিবারও সেদিকেই সেটেল্ড। ভালো ফ্যামিলি থেকে বিলং করে। ঈশতি আর আমি ভার্সিটির প্রথম ইয়ার থেকেই খুব ভালো বন্ধু।♥️ এক মাত্র এই মেয়েটার সাথেই আমার ঠিকঠাক কথা হতো, বাকি বান্ধুবীদের সাথে তেমন একটা কথা হতোনা ভার্সিটির বাইরে।
সেদিন বাসায় ফিরে সারারাত বিগত বছর গুলোর কথা মনে করতে থাকলাম। কিভাবে যাত্রা টা শুরু হয়েছিলো, আর কিভাবে শেষ হলো।🖤
সময় কে কোনো কিছুর সাথে তুলনা করে উঠতে পারিনা। সময় যাচ্ছেনা সময় যাচ্ছেনা করতে করতে কিভাবে যে একটা লম্বা সময় কেটে যায় তা বুঝে উঠা যায়না।
—–
আজ অনেক মাস পর গ্রুপ টায় ম্যাসেজ আসলো। সবাই রিইউনিয়ন করবে বলছে। আমাদের ব্যাচ-মেট রা এই আয়োজন করছে। সামনের মাসেই রিইউনিয়ন হবে। আমাদের ক্যাম্পাসেই অনুষ্ঠান হবে।🎊
সেদিন সময় করে ফিরে গেলাম ক্যাম্পাসে। ক্যাম্পাসের ঢুকার সাথে সাথে যেন চাপা পড়ে থাকা স্মৃতিগুলো আবার ফিরে আসতে লাগলো।🥰 প্রথম দিনের কথা মনে পড়ে গেলো। কিভাবে দিশেহারা হয়ে আমি আমার বিভাগ খুঁজ করছিলাম। এই কথাগুলো মনে করেই হাসতে লাগলাম। তখনই হঠাৎ পিছন থেকে ডাক আসলো- এই “কাব্য”।👤
পিছনে ফিরে দেখি একটা লোক আমার দিকে আসছে। প্রথমে চিনতে পারছিলাম না। 🙄 যেই না একটু সামনে আসলো দেখলাম আর কেও না, লোকটি আরাফাত।
সাথে সাথে তার গলা জড়িয়ে ধরলাম।☺️💞
——-
আরাফাতঃ কি বন্ধু কেমন আছিস?
আমিঃ আর বলিস না।
(দুজনই হাসতে লাগলাম।)
আরাফাতঃ তোর এই উত্তর টা আর পরিবর্তন করলি না।
আমিঃ তোর প্রশ্ন টাও তো তুই বদলাস নি।
(আবারও হাসিতে মগ্ন)😄😄😄
আরাফাতঃ চল, বাকিরা ওই দিকে দাঁড়িয়ে আছে।
——
সেখানে গিয়ে সবার সাথে দেখা করলাম। সবার সাথেই অনেক বছর পর দেখা হলো। মনে মনে ঈশতি কে খুঁজতে লাগলাম। কোথাও দেখা পেলাম না। কাওকে জিজ্ঞেস করারও সাহস পেলাম না।🙂
তাই নিজের মতো বাকিদের সাথে আনন্দ করতে লাগলাম।😇
হঠাৎ ক্যাম্পাসের পাশের টং দোকানের মামার কথা মনে পড়লো। ছুঁটে গেলাম সেখানে। সেখানে গিয়ে জানতে পারলাম মামা নাকি গত বছর মারা গেছেন। পিছন থেকে একটা ছেলে ডেকে বললো
কাব্য ভাইয়া, কেমন আছেন আপনি?🥰
আমিঃ ভালো। চিনতে পারলাম না তো।👤
ছেলেটাঃ কাব্য ভাইয়া আমি “আছিফ”, মামার ছেলে। এইখানে তোমার জন্য চা নিয়ে আসতাম আমি, আর তুমি আমাকে দুই টাকা করে দিতে চকলেট খাওয়ার জন্য। মনে পরেছে!
আমিঃ আরে,আছিফ!😊 তুই তো অনেক বড় হয়ে গিয়েছিস! কেমন আছিস?🥰
আছিফঃ এইতো ভাইয়া ভালো।
আমিঃ তোকে তো সবসময় পড়ার কথা বলতাম, আমার কথা তো কোনো দিন কানে নিস নি।
আছিফঃ ভাইয়া, আমি কিন্তু এইখানেই অনার্স সেকেন্ড ইয়ার এ পড়ি।😊
——
এই কথা বলার সময় ছেলেটার মুখে যেই হাসিটি ফুটে উঠেছিলো তা প্রকাশ করার মতো নয়। যেন নিজের মাঝে স্বর্গ খুঁজে পাওয়া।🥰
এক প্যাকেট সিগারেট কিনলাম। সবার থেকে আঁড়াল হয়ে ক্ষতিকর ধোঁয়া নিজের ভিতর নিতে থাকলাম। ক্যাম্পাসের চারপাশ টা অনেক বদলে গেছে। পুরনো দালানগুলো আর মাত্র হাতে গুনা কয়েকটা বাকি। সব ভেঙ্গে নতুন দালান বানানো হয়েছে। পিছন থেকে তখন,
তোমার সিগারেট খাওয়ার স্বভাব টা এখনো যায় নি!😐 আমি তখন সিগারেট ফেলে দিয়ে ফিরে তাকালাম।
“মাথার চুল তো দেখছি অনেক গুলোই পেকে আছে।”😅
আমিঃ বয়স যেহেতু দিন দিন বাড়ছে চুল তো একটু পাকবেই।😄
ঈশতিঃ তোমার এই পাকনামি কথা-বার্তা আর বন্ধ হলো না।
আমিঃ আমার ক্ষুত ধরাও তো শেষ করোনি এখনো।
ঈশতিঃ হইছে হইছে, কই ছিলা পুরো ক্যাম্পাস খুঁজে ফেললাম কিন্তু কোনো খবর নাই। পরে আরাফাত কে জিজ্ঞাস করায় বললো মামার দোকানের দিকে এসেছ।
আমিঃ চলো সামনের দিকে যাই।
ঈশতিঃ চলো।
——
আমিঃ তো কেমন আছো?
ঈশতিঃ যেমনটা সেদিন দেখেছিলে।
আমিঃ দেশেই আছো নাকি কানাডা সেটেল্ড?
ঈশতিঃ না, রিইউনিয়নের খবর পেয়ে দু-দিন আগে দেশে ফিরলাম। ক্যাম্পাস টা অনেক বদলে গেছে, তাই না?
আমিঃ তুমিও তো অনেক বদলে গেছো।
ঈশতিঃ সেদিন বিয়েতে আসলে না কেন?
আমিঃ ঘুম থেকে উঠতে পারিনি।👤🌚
ঈশতিঃ অন্য কোনো বাহানা পেলে না আর?😒

আমি মুচকি মুচকি হাসতে থাকলাম। অন্য দিকে ঈশতি চুপ হয়ে আছে।

আমিঃ তোমার হাসবেন্ড কেমন আছে?
ঈশতিঃ অনেক ভালো।
আমিঃ দেশে আসা হয় না?
ঈশতিঃ না, তেমন একটা আসা হয় না। দুই বাচ্চার মা আমি। তাদের দিকে নজর দিতে দিতে অন্য দিকে আর খেয়াল রাখা হয় না।
আমিঃ নাম কি রেখেছো?
ঈশতিঃ বড় মেয়েটার নাম জান্নাত আর ছেলেটার নাম রায়ান।
আমিঃ তারাও কি দেশে এসেছে?
ঈশতিঃ ইচ্ছে ছিলো, কিন্তু তাদের শরীর টা একটু খারাপ, তাই আর দেশে আনা হয় নি।
আমিঃ আচ্ছা। ফুচকা খাবে?
ঈশতিঃ বিল তুমি দিবে?😁
—–
😅😅😅😅
হাসতে হাসতে ফুচকাওয়ালার কাছে গেলাম। সেখানে সবার সাথে মিলে ফুচকা খেলাম। দিন প্রায় শেষ। সবাই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নিচ্ছে। কেওই জানে না আবার কখন কবে দেখা হবে একে অপরের সাথে।
ঈশতিও চলে যাবে এখন।
—–
ঈশতিঃ তুমি বিয়ে করো নি?
আমিঃ করবো।
ইশতীঃ আর কবে, চুল তো সব পেকে যাচ্ছে!
আমিঃ আরেকটু পাকুক।😅
—–
সেদিনও ঈশতিকে এগিয়ে দিয়ে আসলাম রিক্সার কাছে। আবারও সেই দিনের মুহুর্ত, তবে মুখের শব্দ এবার ভিন্ন।🖤
—-
ঈশতিঃ ভালো থেকো। দেখা হবে আবারও।
আমিঃ (মুচকি হাসি দিয়ে বিদায় জানালাম।)
—-❣️

লেখকঃ উদীয়মান গল্পকার।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© কুমিল্লা দর্পণ। সর্বসত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও ডেভেলপে Host R Web