রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০৯:৫২ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
“আয়োজন” বাস নেই, তবু গ্রামের বাড়ি ছুটছেন মানুষ হোমনায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ড পুড়ে গেলো ৭০টি দোকান শিক্ষা খাতে বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ দিতে হবে কুমিল্লা ইপিজেডের চায়না কোম্পানির কর্মকর্তা হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন কুমিল্লায় সেনাবাহিনীর খাদ্য সহায়তা পেল ৫ শতাধিক পরিবার কুমিল্লায় শপিংমলে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে পুলিশের অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গে দেশের পতাকা উড়ালেন কুবি শিক্ষক কুমিল্লায় ইপিজেডের কর্মকর্তা হত্যা মামলার প্রধান অসামী গ্রেফতার ময়নামতি রেজিমেন্ট বিএনসিসি’র মানবিক সহায়তা স্বাস্হ্যবিধি উপেক্ষিত কুমিল্লার ঈদ বাজারে হার্ট কেয়ার ফাউন্ডেশন কুমিল্লা’র ব্যবস্থাপনায় অসহায় দরিদ্র ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে খাদ্য সহায়তা, সেলাই মেশিন ও হুইল চেয়ার বিতরণ কুমিল্লার আবাসিক এলাকায় বিষাক্ত বর্জ্য ডাম্পিং কুমিল্লায় মুনিয়া হত্যায় বসুন্ধরা এমডির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি।। আইনজীবী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন ” শ্রমের স্বীকৃতি “

শঙ্কিত তব…..

নাসির উদ্দিন।। করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে ৫৯০ বার জিন পরিবর্তন করেছে, ঘটেছে ৮ টি ইউনিক মিউটেশন। যা বিশ্বের আর কোনো দেশে হয়নি। এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)।

 

 

কেন চরিত্র বদলাচ্ছে করোনাভাইরাস? বিজ্ঞানীরা বলছেন এর কারণ অনেক। ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ’ এর ভাইরোলজিস্ট বিজ্ঞানী অধ্যাপক ইন্দ্রনীল বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগে বলেছিলেন করোনা বারে বারেই বদলাচ্ছে জিনের গঠন। তাঁর মতে, যে কোনও সাধারণ ভাইরাসও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে যদি তার ভিতরে একাধিক মিউটেশন (Genetic Mutation) হয়। অর্থাৎ বদলে যায় জিনের গঠন। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে ৮ টি মিউটেশন হয়ে গিয়েছে। এক্ষেত্রে এই ভাইরাস এখন অনেক বেশী প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। বিজ্ঞান বলছে, নিজেকে অনেকবার বদলে ফেলায় এখন তার নিজে থেকে থেমে যাওয়ার ক্ষমতা নেই। আর এই ‘মডিফায়েড’ ভাইরাসকে রোখার ভ্যাক্সিন পাওয়াও কঠিন হবে। কারণ যে ওষুধ বা ভ্যাক্সিনই দেওয়া হোক না কেন, ভাইরাস তার ধরন বদলে ফেললে সেই ভ্যাক্সিন নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। ফলে একে রোখা না গেলে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আরও মারাত্মক হয়ে পড়বে।

 

 

বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যে এই ভাইরাসের ২৯টি ভাইরাল প্রোটিনের অস্তিত্বের কথা জানিয়েছেন। বিসিএসআইআর আজ (১৯ জুলাই) জানিয়েছে, এই ভাইরাল প্রোটিন বাংলাদেশেই সর্বোচ্চ ৫৯০ বার তার জিন বা রাসায়নিক বদল করেছে। এর আগে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছিল, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে ২৭ টি ভাইরাল প্রোটিন সর্বোচ্চ ৩৮০ বার জিন পরিবর্তন করেছে। বিজ্ঞানীরা আশ্চর্য হয়ে বলেছে, মাত্র ১৫০ ন্যানোমিটার ভাইরাসটির আয়তন। এরমধ্যে যদি ২৯টি প্রোটিন ৫৯০ বার জিন পরিবর্তন করে, তাহলে এই ভাইরাস অনেক ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। এত বেশিবার মিউটেশনের ফলে করোনাভাইরাসের প্রকৃত চরিত্র ও রাসায়নিক গঠন বিজ্ঞানীদের কাছে অধরাই থেকে যাবে। এছাড়া মানুষের শরীরে সহজেই বাহক খুঁজে নিচ্ছে করোনা, সংসার পাতছে কোষের ভেতর। আর চরিত্র পাল্টে ফেলায় এর বাহক প্রোটিন কী, সেটা নিয়ে এখনও অন্তহীন গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ করোনা কৌশলে নিজের বাহকের চরিত্র এমনভাবে বদলে দিচ্ছে, যে সেই ঠিকানার খোঁজও বারেবারেই পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে বিজ্ঞানীদের কাছে করোনা গবেষণার বিষয়টি হয়ে দাঁড়িয়েছে ধারাবাহিকভাবে এর পিছু ছুটে চলা। যতবার যত ধরনের চরিত্র সে পরিবর্তন করছে তত ধরনের ঔষধ বা ভ্যাক্সিন তৈরীর ব্যাবস্থাই করতে হবে।

 

 

এক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, করোনার এই পরিবর্তিত এবং আলাদা চরিত্রের কারণে বাংলাদেশকেও পৃথক ভ্যাক্সিন তৈরী করতে হবে। যদিও বিসিএসআইআর এ ব্যাপারে কিছু বলেনি। কারণ হতে পারে এই সিদ্ধান্তের দায়িত্ব একমাত্র রাষ্ট্রের। তবে ইতিপূর্বেকার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা মতে আলাদা চরিত্রের জন্য আলাদা ভ্যাক্সিনই লাগবে। যদি তাই হয় তাহলে বাংলাদেশের কি সেই প্রস্তুতি আছে? দেশে কি সে ধরনের গবেষণা হচ্ছে বা চলছে? স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক হালহকিকত এ ব্যাপারে আমাদের আশাবাদী নয় বরং শঙ্কিত করে।

 

 

বিসিএসআইআর এর এই গবেষণার কারণে প্রতিষ্ঠানটির কাছে প্রশ্ন, দেশের মানুষের জন্য জিন পরিবর্তনের এই বার্তার বিপরীতে কোনো ভালো সংবাদ কি আছে? বিসিএসআইআর এর বিজ্ঞানীরা কি এর চিকিৎসা ঔষধ বা ভ্যাক্সিন নিয়ে কাজ করছে? যেহেতু চরিত্র পৃথক বলে চিহ্নিত হয়েছে, সেহেতু সরকারের কাছে এর প্রতিকার বা সাজেশন কি দেয়া হলো? বিশ্বে এযাবৎ যেসব ভ্যাক্সিনের সুখবর জানা গেছে, সেগুলোর প্রয়োগ দেশের কতো শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে সম্ভব? অর্থাৎ কতো শতাংশ করোনা চরিত্র অভিন্ন থাকতে পারে?

লেখকঃ সাংবাদিক ও উদ্যোক্তা।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© কুমিল্লা দর্পণ। সর্বসত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও ডেভেলপে Host R Web