শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার জন্য তরুণ সমাজকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে ক্লাস শুরু হলেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা কুমিল্লায় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা নোয়াখালীতে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন হত্যার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত 💜 অনুভবে, ভালবাসায়……💜 দেবিদ্বার উপজেলা চেয়ারম্যান পদের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ইশতেহার ঘোষণা বরুড়ায় কিশোরের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা ভিসিটির গৌরবের এক যুগ ২০ লাখের বেশি মানুষ ভ্যাক্সিন নিলেন ” ভাষার হোক জয় “ কুমিল্লায় জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা কুমিল্লায় পারিবারিক কলহে দুই দিনে পাঁচ খুন নবযাত্রা’র দ্বিতীয় সোপান বসন্ত এসে গেছে
মেঘে-বৃষ্টিতে বা শিউলিগাছের তলে

মেঘে-বৃষ্টিতে বা শিউলিগাছের তলে

বাসন্তি সাহা।। অনেক দিন বৃষ্টি হয় না। সকাল-সন্ধ্যা জুড়ে অক্লান্ত বৃষ্টি। বর্ষণমন্দ্রিত সন্ধ্যাও হয় না অনেকদিন। চারপাশে কেবল ধুলো। বিন্দু বিন্দু বৃষ্টি ফোটা আমি হাতে নেবো বলে অপেক্ষা করে আছি। অপেক্ষা করে আছি একটি আলোকিত প্রান্তরের ভোর আর কুয়াশার মতো বিষন্ন সকালের জন্য। হঠাৎ মেঘে ভেঙে জেগে ওঠা সুর্যের জন্য। একটি বৃষ্টি ধোয়া বিকেলের জন্য। বিভাময় গোধুলী বেলার জন্য। মেঘে-বৃষ্টিতে বা শিউলিগাছের তলে আমি থাকবো। আসবে?

 

বাড়ি যাবো! রাস্তার ধারে একটা শিউলি ফুলের গাছ আর পুকুর পাড়ের নারকেল গাছ। সামনে কালো জলের পুকুর। শ্যাওলা ধরা রাস্তা। লোহার রেলিং দেয়া ব্যালকনি। এই দৃশ্যগুলো কেবল আমার চারপাশে ঘুরপাক খায়। আমি বার বার ফিরে আসি ঢাকা শহরে নিজের ঘরে। ক্লান্ত হাতে গুছিয়ে রাখি সংসার।

বুকের মধ্যে বৃষ্টি নামে নৌকা টলমল
কুল ছিঁড়ে আজ অকূলে যাই এমন সম্বল
নেই নিকটে; হয়ত ছিল বৃষ্টি আসার আগে
চলচ্ছক্তিহীন হয়েছি তাই কি মনে জাগে?
পোড়োবাড়ির স্মৃতি আমার স্বপ্নে মেশা দিন
চলচ্ছক্তিহীন হয়েছি, চলচ্ছক্তিহীন। (শক্তি চট্টোপাধ্যায়)

 

প্রেমের সপ্তাহ শুরু হয়ে গেছে। প্রচুর গিফট দেয়া নেয়া হচ্ছে। আমাদের স্কুল জীবনে তখনও ১৪ ফ্রেব্রুয়রি এমন জেঁকে বসেনি। কলেজে এসে ‘‘যায় যায় দিন’’ দিয়ে ১৪ ফ্রেব্রুয়ারি টা জানলাম। সেভাবে পালন করতেও দেখিনি। তবে বন্ধু লাবণীকে ফুল মিষ্টি দিয়ে লাভ ডে পালন করতে দেখেছি। তখন প্রমিজ ডে, হাগ ডে আর কিস ডে র কথা শুনি্নি। সত্যি কী সাধারণ মার্কিন কাপড়ের মতো ম্যাড়ম্যাড়ে ছিলো জীবনটা। লাবণীর কাছে খবর নেয়া হয়নি তার বিশতম বিবাহবার্ষিকী কেমন কেটেছে। স্বামীর অসুস্থতা, প্রিয়তম সন্তানের মৃত্যুর পর ও কী রকমভাবে বেঁচে আছে।

 

ছোট বেলায় শীতের ভোরে ঠাকুরমার সাথে ফুল তুলতে উঠতাম। শিউলি, পদ্ম, জবায় সাঁজি ভরে যেতো। পাড়ার আরও ঠাকুরমারা আসতেন ফুল নিতে। তাদের গল্প শুনতে শুনতে ঠান্ডা হিমের মতো টিপ টিপ শিশিরের শব্দে আমি ডুবে যেতাম। ফুলের গন্ধ, সকাল বেলা আর শিশিরের শব্দের মধ্যে নিজেকে বড় পবিত্র মনে হতো। না, কোনো পাপ আমি করবো না। ভাবতাম। কিন্তু একটু বড় হয়ে আর সকালে উঠতে ইচ্ছে করতো না। ফুলের গন্ধ আর আর শিশিরের শব্দ আমাকে ছেড়ে গেলো। আর আমি তারপর কত পাপই যে করলাম। মাঝে মাঝেই আজ ভাবি, এভাবে বেড়ে ওঠার পরও ‍পুজোপাঠে মন দিতে পারলাম না আমি। কেনো? উত্তরটা আমি এখনও খুঁজছি।

 

আমাদের কিশোরীবেলার দুপুরগুলো কেমন ঝিম মেরে থাকতো। কখন রোদটা একটু জুড়ালেই খেলতে চলে যাবো্? ঘরে ফেরার বিকেলগুলোও কত আনন্দের ছিলো। পাড়ার এক বয়সী সবাই বন্ধু। গল্পকথার বকবকম থামতোই না। আজ আমার মেয়ের সকাল, দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যার আলাদা কোনো রুপ নেই। গন্ধ নেই। সারাদিন কম্পিউটারের সাথে সবই একরকম। কিন্তু সে কাউবয় হ্যাট চেনে! জিন্স কে ডেনিম বলে। আর দিনের মধ্যে অসংখ্যবার বোর ফিল করে।

 

আমরা একবছর আগে যে জীবন ফেলে এসেছি সেখানে কী আর ফিরতে পারবো? মাস্ক থাকবে তখনও। প্রিয়জনের সাথে হাত মেলাবো না! জড়িয়ে ধরবো না ছুটে গিয়ে! তবে কীভাবে বোঝাবো তাকে কত ভালোবাসি! নাকি অন্যভাবে বোঝাবো । সেও বুঝবে! নাকি—-

আমি রাখব গেঁথে তারে রক্তমণিরও হারে
বক্ষে দুলিবে গোপনে নিভৃত বেদনাতে। (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)

 

সবাই আটপৌড়ে বেঁচে থাকে না। গতানুগতিক বেঁচে থাকার বাইরেও কিছু মানুষ বাঁচে তার মতো করে। নিজের ভালোলাগাটুকু বাঁচাতে গেলে কী অন্যকারো ভালো থাকায় টান পরে! নাকি সব বাঁচিয়েই সব করা যায়। জানি না আজও। হিসেব করে বাঁচতে ভালোবাসি না। সম্পর্কের প্রথম দিকে আমরা নিজের সব ভালোটুকু উজাড় করে দেই। তারপর যখন ঢেউ শান্ত হয়ে আসে । ভেসে থাকে কেবল খরকুটো আর ডুবে থাকে আরও গভীরে ক্ষত আর হাড়ঁগোঁড়। পাঁজর ভাঙার শব্দ।

যে থেকেছে ক্রমাগত ভয়ে
যে দেখেছে ভাঙচুর ক্ষত
যে দেখেছে হুমকির মুখে
প্রতিরোধ ক্রমে অবনত (অনুত্তমা ব্যানার্জী)।

নামটি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা থেকে নেয়া। ছবিটি বন্ধু মুনিয়ার তোলা।

লেখকঃ কর্মসূচী পরিচালক, দর্পণ, কুমিল্লা।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© কুমিল্লা দর্পণ। সর্বসত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও ডেভেলপে Host R Web