শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৭:০৯ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার জন্য তরুণ সমাজকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে ক্লাস শুরু হলেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা কুমিল্লায় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা নোয়াখালীতে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন হত্যার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত 💜 অনুভবে, ভালবাসায়……💜 দেবিদ্বার উপজেলা চেয়ারম্যান পদের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ইশতেহার ঘোষণা বরুড়ায় কিশোরের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা ভিসিটির গৌরবের এক যুগ ২০ লাখের বেশি মানুষ ভ্যাক্সিন নিলেন ” ভাষার হোক জয় “ কুমিল্লায় জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা কুমিল্লায় পারিবারিক কলহে দুই দিনে পাঁচ খুন নবযাত্রা’র দ্বিতীয় সোপান বসন্ত এসে গেছে
দর্পণ ও গণসাক্ষরতা অভিযান আয়োজিত ওয়েবিনারে বক্তাগনঃ পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে তহবিল গঠনের দাবি

দর্পণ ও গণসাক্ষরতা অভিযান আয়োজিত ওয়েবিনারে বক্তাগনঃ পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে তহবিল গঠনের দাবি

সালমা আক্তার চৈতি।। করোনার সময়ে যারা শিক্ষার কোনো মাধ্যমেই যুক্ত হতে পারেনি, তাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করতে হবে। এসব শিক্ষার্থীও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে আস্থা আনতে হবে। শিক্ষক সংকটে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সচল রাখতে হবে। এখন থেকেই শিক্ষকদের প্রস্তুত করতে হবে। প্রাইভেট সেক্টরে নতুন করে শিক্ষকও লাগবে। আর এসবের জন্য লাগবে বিনিয়োগ। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনাও তাদের সহায়তার জন্য তহবিল থাকতে হবে। একই সঙ্গে এর যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে কিনা, সে জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। ১৪ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ওয়েবিনারে এ দাবি জানানো হয়। দর্পণ ও গণসাক্ষরতা অভিযান যৌথভাবে এই ওয়েবিনার আয়োজন করে।

 

বক্তাগন আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের মূল দাবি হচ্ছে দশম গ্রেড ও টাইম স্কেল পরিবর্তন করা। কারণ ২০১৪ সালের পরে টাইম স্কেল পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে ২০১৪ সালের আগে যারা জয়েন করেছেন তাদের সুযোগ-সুবিধা এই কয়েক বছরেও বাড়েনি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যে সকল শিক্ষক প্রধান শিক্ষক পদে উন্নীত হন। তারা কেবল চলতি দায়িত্ব পালন করছে। পদ অনুযায়ি সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়নি। পদের সাথে সাথে সুযোগ সুবিধা বাড়ানো দাবি জানান তারা। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটাই দাবি তাদের সকল স্কুলগুলোকে জাতীয়করণ করা। কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষকদের দাবি সরকার যদি তাদের বিশেষ প্রনোদনা দেয় তাহলে তারা করোনার সময়ের ক্ষতি কাটিয়ে উঠে আবার শিক্ষায় ফিরতে পারবেন।

 

শিক্ষক দিবস পালন উপলক্ষে আয়োজিত এ ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বার্ড এর  সাবেক মহাপরিচালক এম, খায়রুল কবির, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো: আব্দুল মজিদ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষাকর্মকর্তা মো: আব্দুল মান্নান।

 

সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল হাসনাত বাবুল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন দর্পণ এর পরিচালক মাহবুব মোর্শেদ। সঞ্চালনায় ছিলেন দর্পণ কর্মসূচি পরিচালক বাসন্তি সাহা। রিসোর্স পার্সন হিসেবে বক্তব্য রাখেন গণসাক্ষরতা অভিযান এর উপ-পরিচালক কে, এম, এনামূল হক।

 

ওয়েবিনারে আরো বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি জহিরুল হক দুলাল, বরুড়া উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম, রিলায়েন্স বহুমূখী কলেজ কুমিল্লার অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হায়দায় মজুমদার, গুলবাগিঁচা মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কুমিল্লার সহকারী শিক্ষক নেছার উদ্দিন মজুমদার, কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. এ কে এম এমদাদুল হক, রোটারি ক্লাব অব কুমিল্লার এ্যাসিস্টেন্ট গভর্নর আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।

 

বিশ্বব্যাপী শিক্ষার লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জনের ক্ষেত্রে শিক্ষদের যে সমস্ত অর্জন রয়েছে তা জানানো এবং যে সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয় শিক্ষণ প্রক্রিয়া চালু রাখতে সে সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রতিবছর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন করা হয়। প্রতিবছর ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন করা হয়। এবারের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হলো:“Teachers: Leading in crisis, reimagining the future””প্রতিপাদ্যের ভাষান্তর করা হয়েছে-“শিক্ষক: সংকটে নেতৃত্বদাতা, ভবিষ্যতের রূপদর্শী”।

 

এ দিবসটি উদযাপনের মাধ্যমে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অন্যতম মৌলিক শর্ত হচ্ছে শিক্ষক। সুতরাং পর্যাপ্ত সম্পদ ও উপকরণ এবং দক্ষ ও কার্যকর পরিচালনা ব্যবস্থার আওতায় শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের ক্ষমতায়ন, নেতৃত্ব, পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ ও যথাযথ সম্মানী প্রদান, উৎসাহ প্রদান তাদের পেশাগত যোগ্যতা উন্নয়নের ব্যবস্থা নিতে সহায়তা করা। সর্বোপরি দিবসটি উদযাপনের মাধ্যমে সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ তৈরি করার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© কুমিল্লা দর্পণ। সর্বসত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও ডেভেলপে Host R Web