শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৭:০৩ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার জন্য তরুণ সমাজকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে ক্লাস শুরু হলেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা কুমিল্লায় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা নোয়াখালীতে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন হত্যার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত 💜 অনুভবে, ভালবাসায়……💜 দেবিদ্বার উপজেলা চেয়ারম্যান পদের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ইশতেহার ঘোষণা বরুড়ায় কিশোরের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা ভিসিটির গৌরবের এক যুগ ২০ লাখের বেশি মানুষ ভ্যাক্সিন নিলেন ” ভাষার হোক জয় “ কুমিল্লায় জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা কুমিল্লায় পারিবারিক কলহে দুই দিনে পাঁচ খুন নবযাত্রা’র দ্বিতীয় সোপান বসন্ত এসে গেছে
খাদ্য ও পুষ্টি অধিকার- মানবাধিকার নিশ্চিত করতে ‘খাদ্য অধিকার আইন’ প্রণয়ন চাই

খাদ্য ও পুষ্টি অধিকার- মানবাধিকার নিশ্চিত করতে ‘খাদ্য অধিকার আইন’ প্রণয়ন চাই

-মারিয়াম আক্তার পপি।। খাদ্য অধিকার সপ্তাহ উপলক্ষে বাংলাদেশের সকল মানুষের জীবিকা, খাদ্য এবং পুষ্টির নিরাপত্তা অধিকার-মানবাধিকার নিশ্চিত করতে ‘খাদ্য অধিকার আইন’ প্রণয়নের দাবিতে গত ৯ ডিসেম্বর কুমিল্লার বাগিচাগাও এলাকায় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা দর্পণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক খানির উদ্যোগে ‘‘সকল মানুষের জীবিকা, খাদ্য এবং পুষ্টির নিরাপত্তায় খাদ্য অধিকার প্রণয়ন কর” শীর্ষক এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে খাদ্যেও অধিকার নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে জনমত তৈরি করা হয়। পাশাপাশি, চলমান দুর্যোগে সাধারণ মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির অধিকার ও জীবিকার দুর্ভোগগুলো জনপরিসওে তুলে ধরার মাধ্যমে খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।

এ সময় বক্তারা বলেন, ‘খাদ্যেও অধিকার শুধুই রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক অধিকার নয়, বরং মানবাধিকারের অংশ। মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রের ২৫ এর (১) অনুচ্ছেদে, খাদ্য অধিকারের বিষয় ¯পষ্ট কওে বলা আছে। তবে এই অধিকার শুধুমাত্র ক্ষেত্র বিশেষে জরুরী অবস্থায় খাদ্যেও সরবরাহ যোগান নয়, বরং আইনী কাঠামো ও ফলপ্রসূ কৌশলের মাধ্যমে সকলের জীবন ও জীবিকার নিশ্চয়তা প্রদান ও সব সময় খাদ্য ও পুষ্টির সরবরাহের অধিকার নিশ্চিত করাকে বোঝায়।যেহেতু খাদ্যেও অধিকার একটি মানবাধিকার, তাই নাগরিকের খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।আর এই দায়িত্ব তখনই পালন করা সম্ভব হবে, যখন একটি ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সেটি করতে হলে খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়নের কোন বিকল্প নেই।’

কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল হাসানাত বাবুলের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও সংগঠক জহিরুল হক দুলাল  আয়োজিত কর্মসূচিতে সাংস্কৃতিক কর্মীবৃন্দ,খানি সদস্য, নারী কৃষকদেও প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী, সাংবাদিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধন ও সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর সহ-সভাপতি রোটারিয়ান আনোয়ার হোসেন, সাংবাদিক মাহবুবুল আলম বাবু, দৈনিক ইনকিলাবের ষ্টাফ রিপোর্টার সাদিক মামুন, শাহীন স্কুলের পরিচালক হুমায়ুন রশিদ, আওয়ার লেডি অব ফাতেমা গালর্স হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষক আলাউদ্দিন, সাংবাদিক এন, কে, রিপন, সাংবাদিক বাহার রায়হান, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রীর সভাপতি নাগমা মোর্শেদ, সমতটের কাগজ এর সম্পাদক ও প্রকাশক জামাল উদ্দিন দামাল, দর্পণ এর ট্রেজারার ফাখেরা মনসুর, জেলা পর্যায়ে জয়িতা পদকপ্রাপ্ত নাসিমা আক্তার খানম, সালমা ইসলাম নূপুর, পুলিশ লাইন স্কুলের সহকারী শিক্ষক মোজ্জামেল হক, নারী উদ্যোক্তা শামীমা বেগম, নারী উদ্যোক্তা জেবুন নেছা, নারী উদ্যোক্তা মারুফা আক্তার নারী উদ্যোক্তা কোহিনুর বেগম, নারী উদ্যোক্তা সোহাগী আক্তার মিম. নিরাপদ চালক চাই এর আহবায়ক আজাদ সরকার লিটন, এবং এডভোকেট জাফর আলী।

এ সময় বক্তারা আরো বলেন, ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসিরি সার্চ ইনস্টিটিউটের প্রকাশিত বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা সূচক-২০২০ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৭৫; যেখানে বাংলাদেশ ক্ষুধা সূচকে‘গুরূতর মাত্রা’ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে।দেশে প্রায় ৪ কোটি মানুষ পুষ্টিহীনতার শিকার এবং প্রায় ৪৪ শতাংশ নারী রক্ত স্বল্পতায় ভোগেন। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল দুর্গম এলাকার দলিত, আদিবাসী, বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও শহরের নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে পুষ্টিহীনতা বেশি। করোনাকালে এই অবস্থা আরও গুরূতর আকার ধারণ করেছে। লকডাউন চলাকালীন সময়ে দেশের শহরাঞ্চলে মানুষের ৪৭ শতাংশ ও গ্রামের মানুষের ৩২ শতাংশ খাবারের পরিমাণ কমেছে। সরকারি তথ্য মোতাবেকই দেশের প্রায় পৌনে ৪ কোটি মানুষ (দরিদ্র ২১.৮ শতাংশ) পর্যাপ্ত খাবার গ্রহণ করতে পারতেন না। যা সরাসরি মানবাধিকারের স্খলন।

সমাবেশ পরিচালনা করেন দর্পণ এর সহকারী প্রকল্প পরিচালক নাজনীন আক্তার তপা। অনুষ্ঠান আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন দর্পণ এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার সালমা আক্তার চৈতি, অর্থ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা সোহাগী আক্তার এবং প্রোগ্রাম অর্গানাইজার মারিয়াম আক্তার পপি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© কুমিল্লা দর্পণ। সর্বসত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও ডেভেলপে Host R Web