শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
শার্শায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফের ইন্তেকাল, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন  কুমিল্লা ইপিজেডের নাসা কোম্পানীর ছাদ ধ্বসে পড়ে এক শ্রমিক নিহত কুমিল্লায় মাহবুবের মাছের আঁশ রপ্তানি হচ্ছে চীন ও জাপানে চৌদ্দগ্রামের চান্দশ্রী থেকে ৬০০ বোতল ফেন্সিডিলসহ একজন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার শার্শা সীমান্তে ফেনসিডিলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক শার্শার ডিহিতে দুই মেম্বার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ২২ জন আহত  কুমিল্লায় প্রাইভেটকারের চাপায় বৃদ্ধের মৃত্যু দেবিদ্বারে শিশু ফাহিমা হত্যাকান্ডের দায়ে পিতাসহ ৫ জন গ্রেফতার কুমিল্লায় র‌্যাবের অভিযানে মাদকসহ চারজন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় চির বিদায় নিলেন আফজল খান নাঙ্গলকোটে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. কাজী শাহজাহান এর বিদায় সংবর্ধনা কুমিল্লায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা পাবে ফাইজার এর ৪১ হাজার টিকা রেলের প্রেসিডেন্ট সেলুনে একদিন গ্রন্থ সমালোচনা: মোবাশ্বের আলীর সাহিত্য চেতনা গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে তীব্র শীতের আভাস
কুমিল্লায় মাহবুবের মাছের আঁশ রপ্তানি হচ্ছে চীন ও জাপানে

কুমিল্লায় মাহবুবের মাছের আঁশ রপ্তানি হচ্ছে চীন ও জাপানে

রুবেল মজুমদার ।। কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ঝাকুনিপাড়া এলাকা করতে নাকে লাগবে মাছের গন্ধ। অনেকটা শুটকির মতো গন্ধ। ত্রিপলে রোদে শুকানো হচ্ছে সাদা রঙের কিছু। কাছে গেলে ভুল ভাঙবে। এতো মাছের আঁশ।

 

ছয় জন যুবক এখানে কাজ করছেন। কেউ মাছের আঁশ পরিষ্কার করছেন, কেউ সেই আঁশ রোদে উল্টে দিচ্ছেন। যে মাছের আঁশ উচ্ছিষ্ট হিসেবে ফেলে দেয়া হতো, সেই উচ্ছিষ্ট এখন চীন-জাপানে রপ্তানি করা হচ্ছে।

 

মাছের আঁশ দিয়ে ঘরের শো-পিস, ক্যাপসুলের বাহ্যিক অংশ ও গহনা তৈরি করা হয়। মাছের আঁশে স্বচ্ছলতা এসেছে অনেক পরিবারে। এখানে মাছের আঁশ শুকানোর উদ্যোক্তা মো: মাহবুব আলম। তার বাড়ি নগরীর সংরাইশ এলাকায়। মাহবুবের মতো নগরীর আরো দুই ব্যক্তি মাছের আঁশ সংগ্রহ করে।

 

আঁশ শুকানো শ্রমিকদের একজন বিল্লাল হোসেন। তিনি বলেন, আমরা ৬ জন আঁশ শুকানোর কাজ করি। সবার বাড়ি মুরাদনগরের নহল চৌমুহনী। মাছের আঁশ শুকানো দেখতে অনেক মানুষ আসে। জানতে চায় এগুলো দিয়ে কি হয়?

 

ফোন পেয়ে আঁশ শুকানোর স্থানে আসেন মাহবুব আলম। নদীর পাড়ে মোটরসাইকেল রেখে নিচে আঁশ শুকানোর স্থানে নামেন। গায়ে সাদা রঙের সুতির দামি পাঞ্জাবি। চোখে দামি সানগ্লাস।

 

মাহবুব আলম বলেন, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছি। জীবনে অনেক পরিশ্রম করেছি। নগরীর রাজগঞ্জ মাছ বাজারে নানার বাড়ি সূত্রে একটি ঘর পেয়েছি। সেখানে তিনিসহ কয়েকজন মাছ কাটেন। বছর দশেক আগে তার কাছে নারায়ণগঞ্জ সাইনবোর্ড এলাকার এছহাক ব্যাপারী নামে একজন লোক আসেন। তিনি মাছের আঁশ কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি শুকানো ১০ কেজি মাছের আঁশ বিক্রি করে পান ৪ শ’ টাকা। সেই থেকে তার এ ব্যবসার যাত্রা শুরু।

 

তিনি রাজগঞ্জ মাছ বাজারের ১৮টি দোকান থেকে মাছের আঁশ সংগ্রহ করেন। এছাড়া নগরীর বাদশা মিয়ার বাজার, টমসমব্রীজ, কোটবাড়ি, পদুয়ার বাজার, চৌয়ারা, মগবাড়ী ও সেনানিবাসসহ বেশ কয়েকটি বাজার থেকে মাছের আঁশ সংগ্রহ করেন।
প্রতিদিন গড়ে ১’শ কেজি আঁশ সংগ্রহ করেন। মাসে প্রায় ৩ টন। রোদে শুকানোর পর প্রতিকেজি আঁশ ৪০ টাকা দরে বিক্রি করেন। আঁশ শুকানোর জন্য তার ছয়জন কর্মচারী রয়েছে। প্রতিজনকে থাকা খাওয়াসহ মাস শেষে ১০ হাজার টাকা করে বেতন দেন। সব খরচ বাদে প্রতিমাসে এখন তার ১৫ হাজার টাকার মতো লাভ হয়।

 

মাহবুব জানান, ঢাকা থেকে যারা তার কাছ থেকে শুকনো আঁশগুলো কিনে তারা চীন, জাপানে, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়াতে এইগুলো রপ্তানী করে।

 

মাছের আঁশ দিয়ে ঘরের শো-পিস, ওষুধ, ক্যাপসুলের বাহ্যিক অংশ ও গহনা তৈরি করা হয়। তিনি বলেন, ১০ বছর আগে যে আঁশ কেজি ৪০ টাকা ছিলো তা মাঝে কমে যায়। এখন তা আবার ৪০ টাকা হয়েছে। দাম বাড়লে আমরা ভালো লাভ করতে পারতাম।

 

মাহবুব জানান, প্রথম প্রথম এ কাজে অনেকেই নাক সিটকাতো। দুর্গন্ধ বলে দূরে থাকতো। তবে আমি কাজ চালিয়ে যেতাম। কোন কাজই ছোট নয়। কাজকে ভালোবাসলে মানুষের সম্মান বৃদ্ধি পায়। বিদেশে এসব কাজের অনেক মূল্য। স্নাতক পাস দেবিদ্বারের এক ছেলে এসে কাজ শিখেছে। সে বিদেশে গিয়ে এখন মাসে বাড়িতে লাখ টাকা পাঠায়। যারা এই কাজে যারা নাক সিটকাতো তারা এখন দেখতে আসে। এসব কাজে তার পরিবারে স্বচ্ছলতা এসেছে। মাছ কাটা ও আঁশ শুকানোর মাধ্যমে কিছু মানুষের কাজের সুযোগ করে দিতে পেরে ভালো লাগছে। ভবিষ্যতে আরো বেশি মানুষের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে চাই।

 

কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান বলেন, মাহবুব আলমের মাছের আঁশ সংগ্রহ ও বিক্রি ব্যবসায় নতুন সংযোজন। তার দেখাদেখি এই ব্যবসায় আরো অনেক তরুণ এগিয়ে আসছে। তাদেরকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

 

বিসিক কুমিল্লার ডিজিএম মিরাজ শফিক বলেন, ফেলনা উচ্ছিষ্টকে যারা সম্পদে পরিণত করছেন, তারাই প্রকৃত উদ্যোক্তা। মাহবুব আলমের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ অনেকের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। আমরা তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করবো।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© কুমিল্লা দর্পণ। সর্বসত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও ডেভেলপে Host R Web