বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
চৌদ্দগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৩ জন নিহত সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ব্যাংক খোলা ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউন আজ কুমিল্লায় আরো ৭০ জন করোনায় আক্রান্ত, মৃত্যু ৪ লকডাউনে ব্যাংকে লেনদেন হবে আড়াই ঘণ্টা দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন আপাতত লকডাউন সাত দিন: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী কবে সম্ভিত ফিরবে আমাদের? স্বাস্থ্য সচিব করোনা আক্রান্ত, হাসপাতালে ভর্তি করোনার মধ্যে বিয়ের আয়োজন করায় বিয়ে বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত নওরোজ সাহিত্য সম্ভার থেকে প্রকাশ হয়েছে আতিকুর রহমান সুজন-এর দ্বিতীয় নাট্যগ্রন্থ চট্টগ্রামে সন্ধ্যা ৬টার পর ফার্মেসি ও কাঁচাবাজার ছাড়া সব বন্ধ কুমিল্লায় করোনায় ৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৯২ গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ৫০ শনাক্ত ৬৮৩০ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে: শিক্ষামন্ত্রী দিপুমনি
কবে সম্ভিত ফিরবে আমাদের?

কবে সম্ভিত ফিরবে আমাদের?

-মাহবুব মোর্শেদ।।

গত প্রায় এক বছরের বেশী সময় ধরে করোনা আক্রান্তদের সেবা প্রদান করছেন দেশের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীগন। করোনা আক্রান্তদের সেবা দিতে গিয়ে তারা নিজেরাও করোনা আক্রান্ত হয়েছেন একাধিকবার। অনেকে সুস্থ হয়ে আবার চিকিৎসা সেবায় ফিরে এসেছেন। আবার অনেকেই আজ আমাদের মাঝে নেই!

 

গত মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণের শুরুতে আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগের যথেষ্ট প্রস্তুতি ছিল না। হঠাৎ করোনার ছোবলে আমরা সত্যিই দিশেহারা হয়ে গিয়েছিলাম। সেসময় আমরা অনেকেই স্বাস্থ্যবিভাগ, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমালোচনা করেছি বুঝে কিংবা না বুঝে! যদিও আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগের অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল। ছিল অনেক দিনের চলে আসা কিছু অব্যবস্থাপনাও।

 

প্রথম দিকে সেবা পেতে জনগনের কিছু ভোগান্তি হলেও পরবর্তীকালে দেশের সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আমরা আমাদের সীমাবদ্ধতা এবং অব্যবস্থাপনাগুলোকে কাটিয়ে উঠি। এর ফলে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়। আমরা আশাবাদী হয়েছিলাম শীঘ্রই বাংলাদেশ করোনা মুক্ত হবে ইনশাআল্লাহ্।

কিন্তু আমাদের সাধারন মানুষ একেবারেই সচেতন হয়নি। মানেনি স্বাস্থ্যবিধি! ফলে করোনা এখন ভয়ংকর রুপ ধারন করেছে। এখন আবার শুরু হলো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসক-নার্স-স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের কঠোর পরিশ্রম। আমরা কি কখনো তাদের কথা একবার ভেবে দেখেছি?

 

জাতি হিসেবে আমরা সবসময় অন্যের ক্রটি খুঁজতে ভালবাসি। এইতো মাত্র কয়েক মাস আগে করোনা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে অনেক শিক্ষিত লোককেও বলতে শুনেছি ” কি বলেন ভাই, দেশে করোনা আছে নাকি!!! সবই ভূয়া বানানো!!!”

 

টিকা কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে আবার অনেককে বলতে শুনেছি “ধুর এসব ভূয়া!!!” আমি নিজেও অনেককে নিবন্ধণে সাহায্য করেছি। কিন্তু এদের মধ্যে অনেকে নিবন্ধনের পরও টিকা নেননি! এদের বক্তব্য হচ্ছে-” টিকা নিয়ে লাভ হবে না ক্ষতি ছাড়া”! এছাড়া আরও কত বেফাস মন্তব্য।

 

টিকা কার্যক্রম শুরুর প্রারম্ভে চিকিৎসকগন বহুবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন কোন টিকাই ১০০% রোগ প্রতিরোধের নিশ্চয়তা দেয়া না। তাই টিকা নেয়ার পর অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। কিন্তু কে শুনে কার কথা!

 

টিকা নিয়ে অনেকেই স্বাস্থ্যবিধির থোড়াই কেয়ার করেছেন! আর এর পরিনতি হলো করোনা পজিটিভ! এখন ঐসব সমালোচকগন আবার বলতে শুরু করেছেন “বলেছিলাম না টিকা ভূয়া”!!!!

 

দুঃখজনক হলেও সত্য এদেশে সবকিছু নিয়ে চলে রাজনীতি। কয়েক মাস আগে বাংলাদেশ যখন করোনা থেকে মুক্তির পথে হাঁটছিল, এসময়ে আমাদের অসর্তক চলাফেরায় করোনা এখন ভয়ংকর ছোবল মারলো!

 

এর ফলে দেশের স্বাস্থ্য বিভাগের উপর চাপ বাড়লো। জানিনা আমাদের সীমিত সম্পদ দিয়ে আমরা কিভাবে এ ভয়ংকর ব্যাধিকে মোকাবেলা করব? করোনার একমাত্র প্রতিকার হলো সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু আমরা এ বিষয়ে চরম অসচেতন।

 

সেদিন একজন চিকিৎসকের স্ট্যাটাস পড়ে আমার চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে গেল। তিনি তার পোস্টে গত এক বছরের বেশী সময় ধরে দিনরাত রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে তাদের পরিশ্রম ও বেদনার কথা তুলে ধরেছেন। তার লেখা পড়ে জানতে পারলাম, তিনি যে হাসপাতালে কর্মরত এর অধিকাংশ চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মী একাধিকবার করোনা আক্রান্ত। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আক্রমনের পর সীমিত সম্পদ দিয়ে তারা যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন রোগীদের সেবা দানের জন্য।

সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানতে পারলাম হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় শয্যা অপ্রতুল। সিট খালি নেই! অথচ নতুন নতুন রোগীর চাপ প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আইসিইউ বেড চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। এসব নিয়ে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষের।

 

আমি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি দেশের সকল চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি। করোনাকালে দেশের সেবায়, জাতির সেবায় তাদের অবদানের কথা কখনও ভুলব না। স্বাধীনতার ৫০ বছরে এমন দুর্যোগ আমাদের দেশে কখনও আসেনি। এ দুর্যোগ মোকাবেলায় তাদের দিন রাত পরিশ্রমের কথা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

 

জানিনা কবে সম্ভিত ফিরবে আমাদের!!! আসুন আগে সর্বাগ্রে নিজেদের চরিত্র বদলাই। সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলতে শিখি। সমালোচনার পাশাপাশি ভাল কাজের প্রশংসা করতে শিখি। সকলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি। নিজে নিরাপদ থাকি, অন্যকে নিরাপদ রাখি।

লেখকঃ সাংবাদিক ও উন্নয়নকর্মী।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© কুমিল্লা দর্পণ। সর্বসত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও ডেভেলপে Host R Web