বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ১১:৫৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
২৪ ঘন্টার মধ্যে দাউদকান্দি থানায় দায়েরকৃত হত্যা মামলার প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বেনাপোল স্থলবন্দরে  আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ মুরাদনগরে সিএনজি চালক হত্যার ঘটনায় আরো তিনজন গ্রেপ্তার বাঞ্ছারামপুরে শেখ রাসেল দিবস পালিত কুমিল্লা সিটির ৫নং ওয়ার্ড উপনির্বাচনে আনোয়ার হোসেন মিঠু’র গণসংযোগ বার্ডের উদ্যোগে শেখ রাসেল দিবস উদযাপন ও গৃহ প্রদান    কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে শেখ রাসেল দিবস পালন ও আলোচনা সভা কুমিল্লায় ঘটনায় সাত মামলায় ৮০০ আসামী শার্শার লক্ষণপুর কওমী হাফেজিয়া মাদ্রাসা এতিমখানা ও মসজিদের নতুন ভবনের শুভ উদ্বোধন শার্শায় যথাযোগ্য মর্যাদায় শেখ রাসেলের জন্মদিন পালিত সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের প্রতিহতের ডাক কুমিল্লাবাসীর চিত্রাংকনে জেলা পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করেছে মুরাদনগরের শাফি হোমনায় যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার আসামী কিনলেন নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন মুরাদনগরে সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তির শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত মুরাদনগরে চালক হত্যার ঘটনায় দুইজন গ্রেফতার
একদা এমনই বাদল শেষের ভোরে

একদা এমনই বাদল শেষের ভোরে

বাসন্তি সাহা।। মেঘ-বৃষ্টি- রোদ্দুরের খেলায় ভেসে আশ্বিন মাস চলে এলো। ক্যালেন্ডারের পাতায় পাতায় উৎসবের ভিড়। কয়েকজন বন্ধুকে বললাম মহালয়া কবে? কবে অষ্টমি কবে দশমী?? যেনো আমি শেষরাতে উঠে মহালয়া শুনবো। অথবা অষ্টমিতে কাকিমার রান্না ভোগ খেতে যাবো অথবা দশমীর ভাসানের সময় নদীর পাড়ে গিয়ে দাঁড়াবো পাড়ার বউ-ঝিঁদের সাথে। গায়ে শান্তিজল দেয়ার পর মন খারাপ করে বাড়ি ফিরবো। বিজয়া শুরু হয়ে যাবে!
আজকাল ফেসবুকের কারণে কোনোকিছু চাইলেও ভোলা যায় না। বন্ধুদের শুভেচ্ছা বার্তা পাই। ইন্টারনেটের কারণে বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র যে কোনো প্রদোষকালে শুরু করে দিতে পারেন চন্ডী পাঠ। ‘রূপং দেহি, জয়ং দেহি, যশো দেহি, দ্বিষো জহি’৷ হে মহিষাসুরমর্দ্দিনি! অথবা বাজল তোমার আলোর বেনু মাতল রে ভূবন। না শোনা হয় না। শুধু যে সময় নেই তাও নয়। এটা বাজলেই ছোটবেলার শিউলি ফোটা ভোর—গন্ধে আকুল ভোর, পদ্মবনে অরুণ আলোর ছটা হুড়োহুড়ি করে আসে। আর আসে কাকাবাবু। সকালে উঠেই ক্যাসেট প্লেয়ারে চালিয়ে দিতো। রেকর্ড করে রাখতো পুজোর আগে সবগুলো ভোরে শোনার জন্য। কাকাবাবু—তোকে আমরা সব ভাইবোন এখনও স্বপ্নে দেখি। দশবছর হলো তুই নেই। মহালয়া আর তুই আমার কাছে এক হয়ে গেছিস। আমি জানবো মহালয়া কবে কিন্তু কখনো আর শুনবো না।
তিস্তা মাঝে মাঝেই বলে মা তুমি বাবিকে বেশি ভালোবাসো। আমি হাসি! গভীর রাতে ঘুম না আসলে দু’পাশে দুজন ঘুমিয়ে থাকে আমি জেগে থাকি বই পড়ি, ওদের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি আবার কখনো কাঁদি-হাসি মাথায় হাত বুলিয়ে দেই। এই সময়টা খুব প্রিয় আমার। না ভেবে দেখার সাহসই করিনি কাকে বেশি ভালোবাসি! যদি মনে হয়, একজনকে একটু বেশি আর একজনকে একটু কম। সেই ভয়েই এই ভাবনার মধ্যে যাই না। কী দরকার দাঁড়িপাল্লা নিয়ে ভালোবাসার হিসেবে করার। তার চেয়ে এইতো ভালো —
সে আছে ব’লে
চোখের তারার আলোয়
এত রূপের খেলা রঙের মেলা অসীম সাদায় কালোয়,
সে মোর সঙ্গে থাকে বলে
আমার অঙ্গে অঙ্গে পুলক লাগায় দখিন সমীরণে।
চারপাশের এই উৎসব আর আনন্দ আয়োজন কোনোভাবে যেনো স্পর্শ করে না আজকাল। নতুন জামা জুতোর আনন্দতো কবেই শেষ। মনে হয়, সুতো কাটা ঘুঁড়ির মতো হঠাৎ মেঘ ছুঁয়ে ছুয়ে এসে পড়েছি ছাদের কার্নিশে। কেউ খুলে নেবে একদিন না হলে রোদে -বৃষ্টি -জলে অবগাহন হবে। তবু সবগুলো উৎসব প্রতিবছরই শৈশবকে মনে করিয়ে দেয়।
শৈশব বদলে যায় সময়ের সাথে সাথে। আমি তিস্তার সাথে একটা মজার খেলা করি। তিনটে চকবার বা কোন আইসক্রিম এনে দু-ভাইবোনকে দুটো দিয়ে একটা রেখে দেই ফ্রিজে। কাল দুপুরে খাবো। তারপর লক্ষ্য রাখি তিস্তার উপর। সে তার আইসক্রিম শেষ করে অন্য কাজে মন দেয়ার চেষ্টা করে। তারপর উঠে দেখে যায় মা ফেসবুকে বসল কী না? তারপর দ্রুত তৃতীয় আইসক্রিমটা শেষ করে ফেলে। কিছুক্ষণ পরে খুঁজে না পেয়ে যখন জিজ্ঞেস করি আইসক্রিম কই গেলো? বলে, রেখে দিলে গলে যাবে তাই খেয়ে ফেললাম। তখন তিস্তার হাসি আর এক একদিন এক একটা ব্যাখা আমাকে মুগ্ধ করে। আমি প্রায়ই করি এটা। কেবল তিস্তাই ভেবে পায় না। মা কি করে বুঝল যে তার আইসক্রিমের ক্রেভিং হয়েছে?
মেঘলা দিনে দুপুরবেলা যেই পড়েছে মনে
চিরকালীন ভালোবাসার বাঘ বেরুলো বনে…
(শক্তি চট্টোপাধ্যায়)।
এসব ভাবতে ভাবতে ভোর হয়ে আসে। আমি ব্যলকনিতে এসে দাঁড়াই। আমাদের ছোটবেলায় শরতের ভোরগুলোতে সোনার থালার মতো সুর্য উঠতো। আজও কী তেমন হয়? দেখার জন্য দাঁড়িয়ে থাকি। এখানে পূর্বদিক কোথায়?? বাড়িতেতো চিনতাম এভাবে- পূবদিকের রাস্তা। পশ্চিমের দরজা, দক্ষিণের পুকুর আর উত্তর দিকের কাঁঠাল গাছটা। ঠাকুরমার গল্পে সবসময় দিকের বর্ণনা থাকতো কেন? যেমন- ভুত দক্ষিণের বাগান থেকে আসতো অথবা পশ্চিমের পকুর ঘাট থেকে? জিজ্ঞেস করার সময় হয়নি। আজ ধবধবে সাদাচুলের বুড়িকে পেলে বলতাম কত কী শিখিয়ে দিয়ে গেলে, এগুলো নিয়ে এখন আমি ভূগে মরি। আহা! পান্না রঙ শৈশব। এখন একদম আলাদা। তার রঙ কী? তাও জানি না। তিস্তা হয়তো বলবে, এ্যাশব্লাক। কী জানি! হবে হয়তো! সবটাতো বুঝতেও পারি না।
নামটি ‘শ্বাশতী’ কবিতা থেকে নেয়া। ছবি তুলেছে বন্ধু মুনিয়া।
লেখক: কর্মসূচী পরিচালক, দর্পণ, কুমিল্লা।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© কুমিল্লা দর্পণ। সর্বসত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও ডেভেলপে Host R Web