বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০২:১৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
ক্লাস শুরু হলেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা কুমিল্লায় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা নোয়াখালীতে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন হত্যার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত 💜 অনুভবে, ভালবাসায়……💜 দেবিদ্বার উপজেলা চেয়ারম্যান পদের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ইশতেহার ঘোষণা বরুড়ায় কিশোরের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা ভিসিটির গৌরবের এক যুগ ২০ লাখের বেশি মানুষ ভ্যাক্সিন নিলেন ” ভাষার হোক জয় “ কুমিল্লায় জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা কুমিল্লায় পারিবারিক কলহে দুই দিনে পাঁচ খুন নবযাত্রা’র দ্বিতীয় সোপান বসন্ত এসে গেছে “শেষ দেখা”
একটি ছোট্ট মেয়ের গল্প বলি!

একটি ছোট্ট মেয়ের গল্প বলি!

খাদিজা শেখ মিতু।।

পরিবারের বড় সন্তান, বাবা-মায়ের রাজকন্যা যাকে বলে। হাঁটি হাঁটি পা পা করে মেয়েটা বড় হতে থাকে, কত আদর-আহ্লাদ আর সাথে সারাদিনের খুনসুঁটি!

 

 

একটা সময় স্কুলে যায় সে। পড়া না পারলে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকার অপমান!
পড়া মুখস্থ করে যেতে হত তাকে রোজ, আবার বাসায় এসে টুকটাক কাজ করে মাকে সাহায্য করা!

 

 

মেয়েটা বড় হয়ে যায়, কলেজ শেষ করে অনার্সে ভর্তি হয়, কত স্বপ্ন, কত আশা! এদিকে বিয়ের জন্য চাপ আসতে থাকে, একটা সময় বিয়ে হয়েও যায়।

 

 

“বৌমা তো আমাদের বাড়ির লক্ষ্মী ” – এই আদরের কথাটুকু যেন সবসময় বজায় থাকে – বাবা মার এই কড়া নির্দেশে হয়তো পড়ালেখার স্বপ্নটা কখনো পূরণ হয়, আবার কখনো হয় নাহ।
তারপর বাড়িতে নতুন ফুটফুটে এক অতিথি আসে! আর নতুন মা হওয়া আগের সেই ছোট্ট মেয়েটার স্বপ্নগুলো অধরাই রয়ে যায়।

-তোমার আব্বু কি করেন?
– আমার আব্বু ডাক্তার / ইঞ্জিনিয়ার / ব্যবসায়ী….
– তোমার আম্মু?
-আম্মু? আম্মু বাসায় থাকেন, কিছু করেন না।

 

 

হ্যা, আমাদের মায়েরা কিছু করেন না। বাড়িতে আসা নতুন অতিথিকে লালনপালন করে বড় করেন! এই সামান্য কাজটুকুই মায়েরা করেন!

 

 

কত রাত নিজে ভেজা বিছানায় শুয়ে আমাদের বুকে নিয়ে ঘুমিয়েছে। ভুল বললাম! জেগে ছিলো। পাশের মানুষটার সকালে অফিস, তাই গভীর রাতে বাচ্চাটার কান্না পাশের মানুষটার কানে পৌঁছাতে দেননি!

 

 

কতগুলো দিন স্কুলের সামনের গার্ডিয়ান ছাউনিতে বসে ছিলেন, একটা টিফিন বক্সে নুডলস অথবা ভাত আর তরকারি নিয়ে!

 

 

এক হাতে ছেলে/মেয়েটার হাত ধরা, আর এক হাতে একটা বড় ব্যাগে ছোটখাটো একটা সংসার!!
কি রোদ, কি ঝড়, কি বৃষ্টি ! মা তো কিছুই করেন না!

 

 

গতকাল অনেক রাতে সেই কয়েক বছরের হিসাব কষতে বসেছিলাম !!স্যরি! ভাবছিলাম!
ক্লাস ফাইভের একটা পরীক্ষার দিন বৃষ্টিতে পুরোটা রাস্তায় কোমর পর্যন্ত পানি ছিলো! আমার মনে পড়ে মা’র হাত ধরে সেদিন পরীক্ষা দিতে যাই ।একটাই ছাতা। মা ছাতাটা আমার মাথায় ধরে নিজে ভিজেই বাড়ি ফিরলেন।

 

 

কাল রাতে মনে পড়লো – মা’র কাপড়টা তো ভেজা ছিলো, খেয়াল করা হয় নাই ! হয়তো ছোটো ছিলাম বলে!
আর হিসাব মিললো নাহ, ঝাপসা লাগে সবকিছু, খুব ঝাপসা !

 

 

মায়েরা কিছু করেন না, তাদের কোনো মাসিক বেতনও নেই। শুধু ছেলে বা মেয়েটা রাত করে ফিরলে টেবিলে ভাত বেড়ে চেয়ার বা খাটে হেলান দিয়ে একটু বসে থাকতে হয়!কোনোদিন রান্না খারাপ হলে হাজারটা অভিযোগ!

 

 

 

বাসায় মুরগী রান্না হলে মুরগীর রান টা কোনদিন নিজে খান না, অথচ বাড়ির এই ছোট্ট মেয়েটার জন্য একটা সময় তার মা মুরগীর রান আলাদা করে রেখে দিতো !

 

 

আর জীবনের পড়ন্তবেলায়??
ছেলের বউ বা মেয়ের জামাই এর মুখেও সেই একই কথা! “আম্মা তো কিছু করেন নাহ। একটু রান্নাটাও তো ঠিকমতো করতে পারে না। বাসায় বাড়তি ঝামেলা!”

 

 

শাশুড়ির বয়স খুব বেশি হলে আলাদা করে দেয়, আর একটু কম হলে নিজেরাই আলাদা হয়ে যায় ! আর এখন তো বৃদ্ধাশ্রম আছেই!

ও, আমার মা কি করেন সেটাই তো বলা হলো না!
আমার মা জাদু জানেন!

 

 

মুখের দিকে তাঁকিয়েই বলতে পারেন কেমন আছি আর খারাপ সময়গুলোতে কোন কথা বললে ভালো বোধ করতে পারি, গলা দিয়ে ভাত নামাতে পারি!

 

 

হাজারো শব্দ, সুর কানে আসে প্রতিনিয়ত! কিন্তু মা’র কণ্ঠে কুরআন তেলাওয়াত আমার সবচেয়ে প্রিয়।

লেখকঃ কবি ও প্রাবন্ধিক।।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© কুমিল্লা দর্পণ। সর্বসত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও ডেভেলপে Host R Web