শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ০৬:১২ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
“আয়োজন” বাস নেই, তবু গ্রামের বাড়ি ছুটছেন মানুষ হোমনায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ড পুড়ে গেলো ৭০টি দোকান শিক্ষা খাতে বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ দিতে হবে কুমিল্লা ইপিজেডের চায়না কোম্পানির কর্মকর্তা হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন কুমিল্লায় সেনাবাহিনীর খাদ্য সহায়তা পেল ৫ শতাধিক পরিবার কুমিল্লায় শপিংমলে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে পুলিশের অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গে দেশের পতাকা উড়ালেন কুবি শিক্ষক কুমিল্লায় ইপিজেডের কর্মকর্তা হত্যা মামলার প্রধান অসামী গ্রেফতার ময়নামতি রেজিমেন্ট বিএনসিসি’র মানবিক সহায়তা স্বাস্হ্যবিধি উপেক্ষিত কুমিল্লার ঈদ বাজারে হার্ট কেয়ার ফাউন্ডেশন কুমিল্লা’র ব্যবস্থাপনায় অসহায় দরিদ্র ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে খাদ্য সহায়তা, সেলাই মেশিন ও হুইল চেয়ার বিতরণ কুমিল্লার আবাসিক এলাকায় বিষাক্ত বর্জ্য ডাম্পিং কুমিল্লায় মুনিয়া হত্যায় বসুন্ধরা এমডির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি।। আইনজীবী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন ” শ্রমের স্বীকৃতি “
এই দাহকাল সহজে কাটবে না!

এই দাহকাল সহজে কাটবে না!

-বাসন্তি সাহা।।

মাত্র তিনদিনের ব্যবধানে আমরা মিতা হক ও কবরীকে হারিয়েছি। দুজনকে খুব কাছ থেকে চিনতাম তাও না। মিতা হককে দেখেছি দূর থেকে ছায়ানটে আর কবরীকে দেখেছি টেলিভিশনের পর্দায়।

 

আমার প্রথম দেখা সিনেমা ‘‘মমতা’’র নায়িকা ছিলেন কবরী। তখন বিটিভিতে সিনেমাটা দেখানো হয়েছিল। তারপর আরও কত সিনেমা। এখনও মাঝে মাঝে ‘তুমি যে আমার কবিতা’ বা ‘মনতো ছোঁয়া যাবে না অথবা ‘সে যে কেনো এলো না’ সেই অভিমান দেখি মাঝে মাঝে। তাঁর এক্সপ্রেশন, সাজের পরিমিতিবোধ, হাসির সরলতা পরের নায়িকারা আর কেউ পেলো না কেন বুঝতে পারি না! সেই সময়ের গান, অভিনয়, সুরের এতবড় উত্তরাধিকার পাওয়ার পরও আমরা এমন ভিখারী হয়ে গেলাম কেন কে জানে!

আর মিতা হক। তাঁর গান আমি শুনি যখন আমার কাঁদতে ইচ্ছে করে। তাঁর গলায় তাঁর অনুভবে আমার বেদনাগুলো যেনো ধরা দিয়েছে। মিতা হক, দেবব্রত বিশ্বাসের গানের মধ্যে দিয়ে রবীন্দ্রনাথ আমার আশ্রয় হয়ে আছেন। যখনই কোনো বেদনা আমাকে বিদীর্ণ করে আমি ছুটে যাই রবীন্দ্র নাথের কাছে মিতা হক, দেবব্রত বিশ্বাসের হাত ধরে।

 

গত দু’দিন তাদের চলে যাবার সংবাদগুলো ফলো করছিলাম। কেবল প্রথম আলো’তে তাদের চলে যাবার সংবাদের নিচের কমেন্টগুলো পড়ে তাদের চলে যাবার চেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছি। কতরকম মন্তব্য বিম্মিত, হতবাক আর স্তব্দ করে দিয়েছে আমাকে। মনে হচ্ছে, আমরা কোথায় যাচিছ কে তা জানে—-

সেখানে এই দুজন শিল্পী ব্যক্তি মানুষ, তাদের অবদানের বাইরে –তাদের বিশ্বাস নিয়ে যে পরিমাণ নেতিবাচক আলোচনা চোখে পড়েছে তার বেদনা এই মৃত্যুর চেয়ে কম ভয়াবহ নয়। এমন একটা সময়, যে কোনো সময় যে কেউ চলে যেতে পারি! এই সময়ে এসেও আমরা এতোটা হিংসা লালন করি নিজের মধ্যে!

 

তাহলে মহামারী থেকে আমরা কী শিখলাম! অতর্কিতে আক্রান্ত হওয়ার ভয়, সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয়, প্রিয়জনকে হারিয়ে ফেলার ভয় কিছুই পরিবর্তন করতে পারলো না আমাদের মনকে!

 

এই মহামারীর বিষাদস্মৃতি হয়তো বিদায় নেবে কিন্তু মানবিক মানুষ হারিয়ে ফেলার ক্ষতি তার চেয়ে ভয়াবহ হবে। ভাইরাসের চেয়ে তা দ্রুত আগুণের মতো ছড়াচ্ছে। রিক্ত হয়েও আমরা কিছু অর্জন করতে শিখলাম না। এই দাহকাল সহজে কাটবে না।

লেখকঃ কর্মসূচী পরিচালক, দর্পণ, কুমিল্লা।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© কুমিল্লা দর্পণ। সর্বসত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও ডেভেলপে Host R Web